Home » বাবার শেষ ইচ্ছে আর স্ত্রীর আবদারে সীমান্তের ডন কলিমুদ্দিনের আত্মসমর্পণ

বাবার শেষ ইচ্ছে আর স্ত্রীর আবদারে সীমান্তের ডন কলিমুদ্দিনের আত্মসমর্পণ

সময় কলকাতা ডেস্কঃ প্রায় তিন যুগ আগে চোরা চালানের জগতে  পা রেখে ছিলেন তিনি। ১৯৯২ সাল, পড়াশোনা ছেড়ে সীমান্তে চোরা চালানের দলে নাম লেখান। সীমান্তের ভারী বুটের শব্দ কে উপেক্ষা করে নাবালক পাচারকারী হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে অপরাধ জগতের ওস্তাদদের কাছে। বিএসএফের চোখ রাঙানি সব কিছুকে উপেক্ষা করতে বাধ্য হয় সে। শুধু মাত্র পেটের জ্বালায়। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি কলিমুদ্দিন মোল্লার।

দারিদ্র থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে গিয়ে মাথায় তুলে নেন চিনি, লবণ, মশলাস।এই সব নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ে কলিমুদ্দিন এক ছুটে পাড় হয়ে যান নো ম্যানস ল্যান্ড।বাংলাদেশে জিনিষ পাচার করে চোরা চালানে হাতে খড়ি হয়ে যায় কলিমুদ্দিন মোল্লার।সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফেন্সিডিল সহ একাধিক মাদকদ্রব্য পাচারে পেশাদার চোরা চালান কারি হয়ে ওঠে কলিমুদ্দিন। সিদ্ধ হস্ত হয়ে ওঠে সীমান্তে বাংলাদেশে পাচারকারী হিসাবে। আর সেই থেকে পাচারকারীর তকমা লেগে যায় কলিমুদ্দিনের রক্তে।

`বসিরহাট স্বরূপনগর সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশের দোহারকান্দা সীমান্তে বাড়ি কলিমুদ্দিন মোল্লার।বছর পাঁচেক আগে তার বাবা মারা যায়। কলিমুদ্দিন কে তিনি বারবার বলতেন সীমান্তে পাচার ছেড়ে সুস্থ মানুষের মত স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসতে। ছেলে ফিরে আসুক, এটাই চেয়েছিলেন তিনি। বাবার শেষ ইচ্ছা আর স্ত্রীর অনবরত আবদার ও  চাপে কলিমুদ্দিন মোল্লা শেষ পর্যন্ত আত্ম সমর্পন করলেন বিএসএফ এর কাছে। কলিমুদ্দিন মোল্লা দীর্ঘ ত্রিশ বছর পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।এদিন বিএসএফ এর ১১২, নম্বর ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প অফিসে কোম্পানি কমান্ডার অরবিন মিনা উপস্থিতে আত্মসমর্পন করে সে।স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য বজলুর রহমান সরদার কে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পে গিয়ে বিএসএফ আধিকারিকদের মুচলেকা দেয় সে। জীবনে আর সে এই কাজে যুক্ত থাকবে না। জীবনের মূল স্রোতে ফিরে আসাই  একমাত্র লক্ষ্য হবে কলিমুদ্দিন মোল্লার।

About Post Author