Home » রক্তঝরা টেক্সাস : যদি প্রেম দিলে না প্রাণে

রক্তঝরা টেক্সাস : যদি প্রেম দিলে না প্রাণে

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা :

“হৃদয়ে তাকিয়ে
দেখেছি প্রথম জল নিহত প্রাণীর রক্তে লাল
হ’য়ে আছে ব’লে বাঘ হরিণের পিছু আজো ধায়” -জীবনানন্দ দাস

টেক্সাসে অসংখ্যবার রক্ত ঝরেছে। বহু হত্যালীলা সংঘটিত হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়েছে কিছু অপএখন যে ঘটনার উল্লেখ করা হচ্ছে সেই ঘটনার সময়কাল ১৯৬৩ সালের শেষদিক। প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ও তার রাজনৈতিক উপদেষ্টাগণ তাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রচার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। যদিও তিনি সরাসরি নিজের প্রার্থিপদ ঘোষণা দেননি, তবুও পরবর্তী নির্বাচনে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। আর তাই জনসংযোগের জন্য তিনি দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভ্রমণ শুরু করেন। টেক্সাস অন্যতম বড় অঙ্গরাজ্য।দু-দিনের সফরে জন এফ কেনেডি সস্ত্রীক টেক্সাসে এলেন কেনেডি। আর টেক্সাসের সবচেয়ে বড় দুই শহরের একটি হল ডালাস যেখানে দ্বিতীয় দিন শোভাযাত্রা হওয়ার কথা। প্রস্তুতি সাঙ্গ।

প্রেসিডেন্টের টেক্সাস সফরের প্রথম দিনটি ভালোই কাটল।  দ্বিতীয় দিনটি ছিল ২২শে নভেম্বর শুক্রবার। প্রেসিডেন্ট কেনেডি তার স্ত্রী জ্যাকলিন কেনেডি ও গভর্নর জন কনালি ও তার স্ত্রী সহ একটি হুডখোলা গাড়িতে দশ মাইল দীর্ঘ একটি মোটর শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি ডালাস শহরের ডিলে প্লাজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো। প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানাতে এ সময় রাস্তার দু-পাশে ছিল জনতার ভিড়। প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি প্যারেড রুটের দু পাশের জনসমুদ্রের দিকে হাত নাড়ছিলেন। মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা।

বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ তাদের হুডখোলা লিমুজিন গাড়ি বহর যখন টেক্সাস স্কুল বুক ডিপোজিটরি নামক একটি বহুতল দালানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো তখন ঐ দালান এর ষষ্ঠ তলার জানালা থেকেই প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। লী হার্ভি অসওয়াল্ড ঐ ভবনের জানালা দিয়ে প্রেসিডেন্ট কে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছুঁড়ে যার দুটি গুলি এসে লাগে প্রেসিডেন্ট কেনেডির গলায় ও মাথায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। ডালাস এর পার্কল্যান্ড হাসপাতালে কেনেডি কে মৃত ঘোষণা করা হয়। স্বাভাবিক ভাবে পড়ে আলোড়ন।

লী  হার্ভি অসওয়াল্ড প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি কে গুলি করার এক ঘণ্টার মাঝেই একজন পুলিশ অফিসারকে গুলি করে হত্যা করে। ঐ অফিসার কে হত্যার কিছুপরেই সন্দেহ ভাজন হিসেবে একটি মুভি থিয়েটার থেকে লী হার্ভি অসওয়াল্ড গ্রেপ্তার করা হয়।  তারপর ২৩ শে নভেম্বর প্রেসিডেন্ট ও একজন পুলিশ অফিসার কে হত্যার দায়ে লী হার্ভি কে সরকারিভাবে গ্রেপ্তার ঘোষণা করা হয়। প্রেসিডেন্ট হত্যার পরে হত্যাক্রম কেবল একটি হত্যাকান্ডে সীমিত থাকে নি।

,প্রেসিডেন্ট হত্যাকান্ডের পরে লী হার্ভি অসওয়াল্ড বেশি সময় বাঁচেন নি। কে ছিলেন লী হার্ভি অসওয়াল্ড?লী হারভি অসওয়াল্ড ছিলেন একজন সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা।এফবিআই নথিতে উল্লেখ আছে যে তিনি নিজেকে মার্ক্সবাদী হিসেবে দাবী করতেন।তিনি মেক্সিকোর রাশিয়ান ও কিউবান দূতাবাসে গিয়েছিলেন।তার কেনেডি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অনেক প্রশ্নের মধ্যে একটির ক্ষেত্রে ১৯৭৫ সালে রকফেলার কমিশন জানায় সিআইএ- র যুক্ত থাকার কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। প্রায় সাথে সাথেই ডালাসের এক নাইট ক্লাবের মালিক জ্যাক রুবির নাম সামনে উঠে আসে তার কারণ প্রেসিডেন্ট হত্যাকান্ডের পরে হওয়া ঘাতক হত্যাকান্ড।

প্রেসিডেন্ট হত্যার দুদিন পরে ২৪শে নভেম্বর  ডালাস পুলিশ হেডকোয়ার্টারে নিয়ে আসা হয় অধিক সুরক্ষিত জেলে স্থানান্তর করার জন্য। সাংবাদিকরা এই সময় পুলিশি কার্যক্রম  সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। হঠাৎ করে পুলিশ ও সাংবাদিকদের সামনেই জ্যাক রুবি নামক এক নৈশ ক্লাবের মালিক লী হার্ভিকে গুলি করেন। তৎক্ষণাৎ জ্যাক রুবিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বলেন যে প্রেসিডেন্ট কেনেডিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতেই তিনি লী হার্ভিকে গুলি করেছেন। তবে তার এই কথা অনেকেই বিশ্বাস করেন নি। অনেকের মতে, লী হার্ভি অসওয়াল্ড হত্যা প্রেসিডেন্ট কেনেডি কে হত্যার ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ। ফলে,প্রাথমিকভাবে দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়া দেশের প্রতিশোধকামী  নাগরিকের তত্ব খাড়া করা হয় নি। কারণ, জ্যাক রুবি ও একটি বিরাট ষড়যন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা উঠতে থাকে। এবং সবকিছুই ঘটেছিল টেক্সাসের মাটিতে।।

চলবে….

About Post Author