Home » মোটা মানুষদের দেশে শান্তি নেই

মোটা মানুষদের দেশে শান্তি নেই

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা

(শেষ পর্ব )

নাউরু দ্বীপের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিদের দিন শেষ হয়েছে। অশিয়ানিয়ার ছোট্ট এই দ্বীপটির (যা কিনা আয়তনে ২১ বর্গ কিলোমিটার ) ১১০০০ মানুষ  মোটেই ভালো নেই।  অথচ একদিন এই দেশটি ছিল পৃথিবীর অন্যতম ধনী দেশ। এখানের মানুষের গড় ওজন ১০০ কেজি আর তাঁরা রোগ ব্যাধিতে কাবু। কেন এরকম হল?

নাউরু ১৯৬৮ সালে তার স্বাধীনতা লাভ করে এবং অবশেষে তার নিজস্ব মূল্যবান ফসফেট আমানতের ওপরে তাদের নিয়ন্ত্রণ নেয়। নবজাত রাষ্ট্রটি হাঁটে বিলাসবহুল জীবনের সন্ধানে।ভ্রান্ত রাষ্ট্রনীতির কারণে নিজেদের শিক্ষা ও স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।বেপরোয়াভাবে খনির উপর নির্ভর করতে থাকে এবং অন্তত স্বল্পমেয়াদে লাভজনক পথ তারা আঁকড়ে ধরে যা তাদের পতন নিশ্চিত করে।

মাত্র তিরিশ বছরের বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী দেশ হয়ে ওঠে দরিদ্রতম দেশ। আধুনিক কালে দুটি কারণ তাদের অর্থনীতি দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে।প্রথমত,বিদেশী রাষ্ট্রগুলি তাঁদের ফসফেট থেকে মুনাফা লুটেছে দুহাতে, দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ লোপ পেয়েছে, জমির উর্বরা শক্তি ধ্বংস হয়েছে ।দ্বিতীয়ত,নাউরুর মানুষ তাদের দেশের আকরিক সম্পদের বিনিময়ে তারা যে অর্থ পেয়েছিল তা তারা নিজেদের স্বনির্ভর করতে  ব্যয় না করে, বিলাসিতার রাস্তায় তারা হেঁটে নিজেদের পতন ডেকে এনেছে।

নাউরুর প্রায় আশি শতাংশ জমি এখন আর চাষ-আবাদের যোগ্য নেই কারণ দীর্ঘদিন ধরে ফসফেট পাওয়ার জন্য খননকার্য জমিকে করে তুলেছে বন্ধ্যা। তাদের নির্ভর করতে হয় বিদেশ থেকে আসা প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ওপরে।অস্ট্রেলিয়া বা বাইরের দেশ থেকে আসা প্রসেসড ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাদ্যগ্রহণ তাদের অভ্যাস হয়ে ওঠে।টাটকা খাওয়ার পথ কার্যত ছিল বন্ধ। চাষের জমি বা ফসল নেই। তাই প্রক্রিয়াজাত খাদ্য দিয়েছে টাইপ টু ডায়াবিটিস ও কিডনির রোগ।

দেশটির নতুন সমৃদ্ধি তাদের পশ্চিমা বাণিজ্য এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার দিয়েছে।এর কম বেশি নাগরিকদের চাহিদাপূর্ণ কাজগুলি করতে হয়েছিল এবং তাই অনুশীলনের হারও হ্রাস পেয়েছে।কিন্তু দেশের সৌভাগ্য চিরকাল স্থায়ী হয়নি।নাউরুর একসময় কৃষির জন্য উপযোগী জমি আর তার জনগণের জন্য স্থির খাদ্য আর সরবরাহ বজায় রাখতে পারে না।বিষয়টিকে আরও খারাপ করার জন্য, ফসফেটের আমানত শেষ পর্যন্ত শেষ হয়ে যায়, যার ফলে দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে যায়।

এখন দ্বীপবাসীরা প্রাথমিকভাবে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড থেকে আমদানি করা অত্যন্ত প্রক্রিয়াজাত এবং সস্তা খাবারের উপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি আচমকা যেন তাদের ডায়েট তাজা ফল এবং মাছ থেকে টুইঙ্কি বার এবং জার্কিতে চলে গেছে। আর সেই কারণেই এই ছোট্ট দ্বীপের দেশটির স্থূলতার হার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি।ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য জটিলতা মোকাবেলায়, নাউরু তার জনগণকে শারীরিক কসরৎ  করতে উৎসাহিত করেছে। শারীরিক কার্যকলাপ প্রচার করে এমন কর্মসূচীসমূহ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের বিরুদ্ধে অনেক কিছু করতে পারে এনিয়ে দ্বিমত নেই। নাউরুর বর্তমানে বোধোদয় এতটাই দেরিতে হয়েছে যে দ্ৰুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া বেজায় কঠিন।

খনির উপর অত্যধিক নির্ভরশীলতার কারণে স্বনির্ভর না হওয়া ও প্রমোদে মত্ত একটি দেশ স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিশেষ অর্থ লগ্নি করতে অক্ষম। ফলে স্থূলকায় মানুষদের দ্বীপে কেউ আজ বিশেষ সুখে নেই।।

 

About Post Author