Home » ভিন্ন চিত্র! একদিকে বৃষ্টিতে ভাসছে রাজ্য, অন্যদিকে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা

ভিন্ন চিত্র! একদিকে বৃষ্টিতে ভাসছে রাজ্য, অন্যদিকে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা

সময় কলকাতা ডেস্ক: প্রকৃতি বড় বৈচিত্র্যময়, আর প্রকৃতির বৈচিত্র খামখেলিপনা বোঝা দুষ্কর। একদিকে দেশের ছয়টি রাজ্যের বিভিন্ন শহরের একাধিক অঞ্চল বৃষ্টির জলে ভাসছে। তখন অন্যদিকে বৃষ্টির জন্য শুরু হয়েছে কাতর প্রার্থনা।

প্রকৃতি বড়ই খামখেয়ালি। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার নিদর্শন মাঝে মাঝেই প্রত্যক্ষ করা যায়। কখনো তুষারপাত,কখনো ধস, অগ্নুৎপাত, ভূমিকম্প, সুনামি ঝড় আর প্রবল বর্ষণের কারণে বন্যা। প্রকৃতির রোষে মাঝে মাঝেই পড়ে প্রাণীকুল। বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই প্রবল বৃষ্টিতে দেশের একাধিক রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল কার্যত জলের নিচে।

আসামের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪০। তেলেঙ্গানায় একাধিক ঘর বন্যার জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। মুম্বইয়ের জনজীবন বিধ্বস্ত। দেশের বাণিজ্য নগরী প্রবল বৃষ্টির কারণে স্তব্ধ। যানবাহন,রেল চলাচল বিধ্বস্ত। রাজস্থানের হাল প্রায় একই। জয়সালমীর যোধপুর বিকানির উদয়পুর সহ একাধিক শহর বন্যার কবলে। ডুবে গিয়েছে অনেক যানবাহন। বিগত পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে গুজরাটের মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম। ভালসার ,মান্ডুভি, নভশাড়ি, গির, সোমনাথ ,সুরত, রাজকোট ,বলসার, দ্বারিকা জুনাগড় সহ একাধিক জায়গায় বন্যার কারণে নামাতে হয়েছে এনডিআরএফ এর ১৮টি বাহিনী। উপচে-পড়ছে অম্বিকা ও নর্মদা নদী। ডেডিয়াপাডা, সাগুয়ারায় বিগত ১২ ঘন্টায় ১৮ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়েছে। কার্জন ড্যামের ৯টি গেট খুলে ২লক্ষ ১০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর তরফ থেকে উদ্ধার কার্যের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে চেতক হেলিকপ্টার। এখনো পর্যন্ত গুজরাটে বন্যার কারণে মৃত্যু হয়েছে ৬৩ জনের। জারি হয়েছে লাল কমলা সতর্কতা ।

একদিকে প্রকৃতির রোষে প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত সাধারন মানুষ। তখন অন্যদিকে বৃষ্টির জন্য হা হুতাস করছেন মধ্যপ্রদেশের ইটাওয়ার মানুষ। বিগত কয়েক মাস বৃষ্টির দেখা নেই। ইন্দ্রকে খুশি করার জন্য গ্রামবাসীরা গামা দেবীর মন্দিরে শুরু করেছেন পূজা অর্চনা। মথুরা থেকে ডেকে আনা হয়েছে রাকেশ শাস্ত্রীকে। ইটাওয়া অঞ্চলের সমস্ত গ্রামবাসী গামা দেবীর মন্দিরে উপস্থিত হয়ে গণেশ পুজোর আয়োজন করেছেন পাশাপাশি ইন্দ্র পুজোর আয়োজন করেছেন। সকল গ্রামবাসীর একটাই প্রার্থনা বৃষ্টি হোক, না হলে এ বছর চাষাবাদ সম্ভব নয়। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস প্রত্যেক বছরের মতন এ বছরও পুজো দিলে বৃষ্টি হবে।

দেবীর আরাধনা করলে বৃষ্টি হবে কিনা সেটা সময় বলবে তবে প্রকৃতি যে প্রতিনিয়ত আরো বেশি খামখেয়ালি হচ্ছে এবং সেটা গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে এ কথা বারবার বলে এসেছেন আবহাওয়াবিদরা।

About Post Author