Home » স্বাধীন ভারতের এ কেমন ছবি? স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্ত্রীয়ের কন্ঠে আক্ষেপের সুর..

স্বাধীন ভারতের এ কেমন ছবি? স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্ত্রীয়ের কন্ঠে আক্ষেপের সুর..

সময় কলকাতা ডেস্কঃ স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সেজে উঠেছে গোটা দেশ। কিন্তু দেশের অন্দরে যে দুর্নীতি, ধর্মান্ধতা কালো মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। এই আক্ষেপের সুর শোনা গেল প্রবাদপ্রতিম স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্ত্রী এর কন্ঠে।

দেশ-জুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে চলছে আজাদি কা অমৃত মহোৎসব। কিন্তু ৭৫ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও দেশ এখনও ধর্মান্ধতা এবং দুর্নীতির বেড়া জালে আবদ্ধ। অভিযোগ বর্ষীয়ান স্বাধীনতা সংগ্রামী বিষ্ণুব্রত ভট্টাচার্য এবং শ্রীসুন্দর ভট্টাচার্যের দুই ৯০ বছরের স্ত্রী নমিতা ভট্টাচার্য এবং গীতা ভট্টাচার্যের। একান্ত আলাপচারিতায় তাঁরা জানালেন স্বাধীনতা সংগ্রামী বিষ্ণুব্রত ভট্টাচার্য এবং সুন্দর ভট্টাচার্য ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আন্দোলন সফল করতে তাঁরা আড়াই বছর জেলও খেটেছিলেন। এই দিনগুলো দেখার জন্যই তাঁরা জেল খেটেছিলেন? প্রশ্ন দুই বৃদ্ধার।

মাত্র ২১ বছর বয়সে হরিশ্চন্দ্রপুরে বিষ্ণুব্রত ভট্টাচার্যের স্ত্রী রূপে হরিশচন্দ্রপুরে পা রেখেছিলেন নমিতা দেবী। স্বাধীনতা সংগ্রামের পর কলকাতা সহ বেশ কয়েকটি স্কুলে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি হেডমাস্টার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি ছিলেন প্রয়াত বিষ্ণুব্রত ভট্টাচার্য। রাজ্যের যে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তাঁর স্বামী সারা জীবন স্বাধীনতার পর থেকে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন, এখন সেই রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীই দুর্নীতিগ্রস্ত।

গীতা ভট্টাচার্য ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে হরিশ্চন্দ্রপুর আসেন। তাঁর স্বামী শ্রীসুন্দর ভট্টাচার্য তাঁর বাড়িতে সপ্তাহে একদিন করে কাজের লোকেদের সঙ্গে এক আসনে বসে মধ্যাহ্ন ভোজন সারতেন। গান্ধীজীর অস্পৃশ্যতা বিরোধী আন্দোলনকে আর্দশ মেনেই হরিশ্চন্দ্রপুর থানার সংলগ্ন কালী মন্দিরে গ্রামের হরিজন সম্প্রদায়দের দিয়ে কালীর ভোগ রান্না করিয়ে ছিলেন। সেই পরম্পরা আজও চলে আসছে। স্বাধীনতা আন্দোলনকারীরা রেলে সেই সময় চাকরি করলে যে সমস্ত সরকারি সুবিধে পেতেন, সেই সুবিধে নিতে চাননি শ্রীসুন্দর ভট্টচার্য।

কিন্তু সেই সব দিন আর নেই। এখন গীতা ভট্টাচার্য কিংবা নমিতা ভট্টাচার্যের স্বামীর অবদান কেউ মনে রাখেনি। কেউ আর ফিরেও তাঁকান না এই দুই বৃদ্ধার দিকে। তাঁরা উদাসীন দৃষ্টিতে শুধু চেয়ে থাকেন স্বামীদের ছবির দিকে। তাঁদের চোখের সামনে গড়ে ওঠা ভারতবর্ষ যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

About Post Author