Home » আন্দামানের রোজনামচা

আন্দামানের রোজনামচা

দেবিকা চট্টোপাধ্যায় (অতিথি লেখিকা ), সময় কলকাতা:

দ্বিতীয় পর্ব

প্লেনে ওঠার সময় বহু মানুষকে দেখলাম যারা মামুলি একটা থলে হাতে হাওয়াই চপ্পল পরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে প্লেনে ওঠার অপেক্ষায়। তাদের চেহারা বা পোশাক আশাকে গ্রাম্য সরলতার ছোঁয়া। খুব জানতে ইচ্ছে করছিল ওরা আন্দামানে কোথায় যাচ্ছে কেন ই বা যাচ্ছে। কিন্তু জানার তো কোনও উপায় নেই। অনুমান করলাম কায়িক পরিশ্রমের কোনো কাজ করতেই হয়তো এরা আন্দামান যাচ্ছে। কোনো ঠিকাদারের মাধ্যমেও যেতে পারে, যেভাবে অন্যান্য দেশে বিভিন্ন কাজের জন্য বহু মানুষকে পাঠানো হয়,অনেককে আটকে রেখে বন্ডেড লেবার হিসেবে খাটানো হয়। খবরের কাগজে তাদের দুর্ভাগ্যের কথা পড়ে আমরা সমব্যাথী হই , তারপর ভুলে যাই। এক্ষেত্রে সেই দুর্ভাগ্যের ভাগীদার এরা নিশ্চয়ই নয়,এরা তো নিজের দেশেরই এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাচ্ছে, হয়তো কাজের সুযোগ পেয়েই যাচ্ছে। আমি সকলের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম,সকলেই ছোট ছোট দলে জোট বেঁধে কথাবার্তা বলছিল।সবার চেহারাই শীর্ণকায় এবং পরনের জামাকাপড় ও বেশ মলিন। তবে মুখ দেখে কাউকেই দুঃখিত বলে মনে হলোনা বলে আস্বস্ত হলাম।যে কাজে এরা যাচ্ছে তা হয়তো এদের জানা,তাতে এরা নিশ্চয়ই অভ্যস্ত,আর সেই কাজ করে হয়তো তারা সন্তুষ্টও,এ ভেবেই শান্তি পেলাম। প্লেনে উঠে আমি আর মেয়ে দুটো জানলা দখল করলাম, উনি আর ছেলে পাশেই বসলেন। আমাদের যাওয়ার প্লেনটা ছোট প্লেন ছিল,৭০টা সিটের। নির্দিষ্ট সময়ে রানওয়ে বেয়ে চলতে শুরু করলেও অন্য একটা প্লেন ঐ সময়েই কলকাতায় নামছিল, তাকে নামতে দেওয়ার জন্য কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে পড়ল ।ঐ প্লেন রান ওয়েতে নেমে তার নির্দিষ্ট অবস্থানে পৌঁছনোর পর আমাদের প্লেন বিশাল রানওয়ে ধরে ছুটতে ছুটতে ক্রমশ গতিবেগ বাড়িয়ে একসময় ঝাঁকুনি দিয়ে মাটি ছেড়ে ভেসে পড়ল আকাশে। কলকাতার মাটি ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকল,প্লেনের জানলা দিয়ে…..

About Post Author