সময় কলকাতা, সানি রায় উত্তরবঙ্গ:-দোলের ছুটি অথবা একটু একান্ত নির্জনে সময় কাটানো, যেটাই ভাবুন আপনার জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য নিয়ে সবুজের চাদর বিছিয়ে নেওড়া ভ্যালি জঙ্গল ক্যাম্প। দিনে জঙ্গলের নিস্তব্ধতা আর বন্যপ্রাণীদের আনাগোনা, মাঝে মাঝে নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করবে পাখিদের কলরব। আর গাছের আড়ালে সূর্যের আঁকিবুঁকি খেলা। ধরুন আপনি ছোটবেলায় ডানপিটে ছিলেন ,আপনার শৈশবকে মনে করাবে এই জঙ্গল। জঙ্গলের মাঝে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আপনার মনে হবে এই পথ যদি না শেষ হয়। অর্থাৎ ভ্রমণপিপাসুদের মনের খিদে মেটাতে সমস্ত কিছুই রয়েছে এই নেওড়া ভ্যালি ক্যাম্পে।
দীর্ঘ সময় কিছুটা অবহেলার পড়ে থাকার পর জেলার বনবিভাগের আধিকারিক বিকাশ ভির উদ্যোগে ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেস্ট কর্পোরেশনের আর্থিক সহযোগিতায় এবং লাটাগুড়ি অঞ্চলের রেঞ্জার সঞ্জয় দত্তের পরিচালনায়, দোল যাত্রার আগেই থাকা- খাওয়া সহ নতুন সাজে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত নেওড়া ভ্যালি ক্যাম্প।

কি আছে এই ক্যাম্পে?
ছোট ছোট পাঁচটি ফ্যামিলি কটেজ ,আট জনের থাকার মতো ডরমেটরি রুম। পাশাপাশি রয়েছে স্থানীয়দের হাতে তৈরি একেবারে ঘরোয়া অতুলনীয় স্বাদের আহার।
পর্যটকরা কি বলছেন?
কলকাতা থেকে পরিবার নিয়ে দোলের ছুটি কাটাতে জঙ্গল ক্যাম্পে এসেছেন কলকাতার বাসিন্দা বাণীব্রত পাল, তার মতে এই নেওড়া ভ্যালি জঙ্গল ক্যাম্প এক কথায় অনবদ্য, মাঝে মাঝে ভেসে আসছে ময়ূরের ডাক, কটেজের জানলা খুললেই দেখা যাচ্ছে গভীর জঙ্গলে সূর্যের আলো-আঁধারির খেলা, মাঝে কটেজের পাশে চলে এসেছিল হরিণ। পাখিদের কলতান সকালবেলায় ঘুম ভাঙিয়ে দেয়। ক্যাম্পে কর্মরত কর্মীদের ব্যবহার অমায়িক। যত পর্যটকই এসেছেন প্রত্যেকেই আপ্লুত এই পরিবেশ পেয়ে।

লাটাগুড়ির ভূমিপুত্র তথা পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী অনির্বাণ মজুমদার জানান, একসময় এখানকার ডিএফও ছিলেন তাপস দাস, তার তত্ত্বাবধানেই তৈরি হয়েছিল নেওড়া ভ্যালি জঙ্গল ক্যাম্প, তবে দীর্ঘ যুগ অযত্নে পড়ে থাকার কারণে এখানে পর্যটক আসছিলেন না, বর্তমান ডিএফও ও রেঞ্জার দুজনের যৌথ উদ্যোগে সংস্কার করার ফলে নতুন রূপে সেজে উঠেছে এই পর্যটন কেন্দ্র। সম্প্রতি প্রচুর পরিমাণে পর্যটক আশায় যেমন খুশি এলাকার মানুষ ঠিক তেমনি খুশি বনদপ্তরের কর্মীরাও।


More Stories
মরিচা ঝিল, বর্তির বিল : প্রশাসনিক উদ্যোগে পর্যটন শিল্পে আমডাঙার স্বপ্নপূরণ
মূর্তি পর্যটন কেন্দ্র পর্যটকশূন্য, মূর্তির মনখারাপ
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কি ফাঁস?