সময় কলকাতা ডেস্ক: ৭-০ সমীকরণে, ১২ আসন বিশিষ্ট ঝালদা পুরসভা দখল করল কংগ্রেস। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর পুরসভা হাতছাড়া হল তৃণমূলের। কংগ্রেসের দখলে গেল ঝালদা পুরসভা।
হাইকোর্টের নির্দেশে সোমবারের তলবি সভায় অনাস্থা আনা কংগ্রেসের ৫ কাউন্সিলর ও নির্দলের এক কাউন্সিলর সোমনাথ কর্মকার ছাড়াও তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করা শীলা চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে বোর্ড গঠন করে কংগ্রেস। এদিনের তলবি সভায় শাসকদল তৃণমূলের পাঁচ কাউন্সিলরের কেউই ছিলেন না। কিন্তু, এটা নিছকই অনাস্থা প্রস্তাবের ফল ? তেমনটা কিন্তু নয়। অনেক বাধা বিপত্তি কাটিয়ে রাজ্যে পুরসভা ভোট হয়। অধিকাংশ পুরসভাই ছিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের দখলে। তবুও, যেন ভোটের ফলাফলের পর থেকেই খবরের শিরোনামে ছিল পুরুলিয়ার ঝালদা পুরসভা। কারণ, ভোটের ফলাফল ছিল ত্রিশঙ্কু। ১২ আসন বিশিষ্ট ঝালদা পুরসভায় ভোটে ৫টি করে আসনে যেতে কংগ্রেস তৃণমূল। ২টি আসন দখল করেছিল নির্দল।
স্বাভাবিকভাবেই ফলাফল ত্রিশঙ্কু হওয়ায় বোর্ড গঠনের লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাত-ঘাসফুল দুই শিবিরই। ম্যাজিক ফিগার ছিল ৭। মাঝপথেই অংক মিলিয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হওয়া শীলা চট্টোপাধ্যায় ঘাসফুল শিবিরে যোগদান করেন। তারপরেই ১৩ মার্চ খুন হয়ে যান ঝালদা পুরসভার দু’নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু। ফলে তৃণমূলের ৬ কাউন্সিলর ও তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া নির্দলের সোমনাথ কর্মকার শাসকদলকে সমর্থন করলে তৃণমূল পুরবোর্ড গঠন করে। তবে, এখানেই কিন্তু এই তরজা শেষ নয়।
কংগ্রেসের জয়ী প্রার্থী তপন কান্দু খুনের পরেই কংগ্রেস-তৃণমূল দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। কংগ্রেস প্রতিনিয়ত অভিযোগ করতে থাকে তৃণমূল বোর্ড গঠন করায় মরিয়া হওয়ার জন্যই খুন হন তপন কান্দু। তপন কান্দু খুনের ঘটনার জল গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত। হাইকোর্টের নির্দেশে তপন কান্দু খুনের তদন্তভার গ্রহণ করে সিবিআই। তদন্ত চলে তদন্তের গতিতে। এর মাঝেই মৃত তপন কান্দুর ২ নং ওয়ার্ডে লড়াই করেন তপন কান্দুর ভাইপো মিঠুন কান্দু। জয়লাভ করেন তিনি। এই বোর্ড গঠনের ৬ মাসের মধ্যেই ঝালদা পুরসভার চেয়ারম্যান সুরেশ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আসে। এরপরেই তলবি সভা ডাকা নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়েন। হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন চেয়ারম্যান সুরেশ আগরওয়াল ও উপ-পুরপ্রধান সুদীপ কর্মকার। পাল্টা মামলা করেন অনাস্থা আনা কাউন্সিলর-সহ তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করা শীলা চট্টোপাধ্যায়। মামলা গড়ে ডিভিশন বেঁচে। সেখান থেকেও ২১ নভেম্বরই তলবি সভার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ মতো সোমবার ৭-০ সমীকরণে, তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করা শীলা চট্টোপাধ্যায় এবং এক নির্দল প্রার্থীর সমর্থনে বোর্ড গঠন করে কংগ্রেস।


More Stories
দিল্লি গেলেন অভিষেক
ঔদ্ধত্য,দাম্ভিকতা,অহংকার এবং দুর্নীতিকে মদত -নাম না করে মমতাকে বেনজির আক্রমণ শান্তনু সেনের
শান্তি নেই শ্মশানেও -বঙ্গভূমির করুণ আখ্যান