Home » টেট কেলেঙ্কারি? আদতে হচ্ছে কী ?

টেট কেলেঙ্কারি? আদতে হচ্ছে কী ?

সময় কলকাতা ডেস্ক : রাজ্যজুড়ে চলছে টেট যা রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রীর ভাষায় “গণ উৎসব “। অতীতে টেট ঘিরে রাজ্যে যা যা ঘটেছে তা সব ধরনের ক্রাইম,থ্রিলার, সাসপেন্সধর্মী চিত্রনাট্যকে  হার মানিয়েছে। এবারও টেট নিয়ে আশা -আশঙ্কার দোলায় দুলছেন পরীক্ষার্থীরা। স্বস্তিতে নেই কেউ।একদিকে রাজ্য প্রশাসন টেট পরীক্ষাকে সাফল্যমন্ডিত করার চেষ্টা করছেন অন্যদিকে বিরোধীরা একের পর এক অভিযোগ তুলে আনছেন। ফলশ্রুতি  শিক্ষা ও চাকরির মত বিষয়কে প্রায় গ্রাস করে ফেলেছে চাপা উত্তেজনা ও রাজনৈতিক আবহ। এবার হচ্ছেটা কি  অথবা অতীতে কি হয়েছে অল্প কথায় তার নির্যাস তুলে ধরার চেষ্টা আলোচ্য প্রতিবেদনে ।

রাজ্যে মোট পরীক্ষার্থী ৬ লক্ষ ৯০ হাজারেরও বেশি। ১ হাজার ৪৬০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা চলছে। প্রতিটি সেন্টারে রয়েছে সিসিটিভির নজরদারি। মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। শনিবারই প্রাথমিক টেট বানচাল করার চেষ্টা হতে পারে, আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ ছিল, দশ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ও উত্তর জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে পরীক্ষা শুরুর আগেই পাঁচ লাখ ও পরীক্ষা শেষের পরে পাঁচ লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেই সমস্ত অভিযোগ-আশঙ্কা উড়িয়েই প্রায় নির্বিঘ্নে মিটল প্রাথমিকের টেট। রবিবার এমনটাই জানালেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তবে বিরোধীরা পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করলেন তিনি।
এদিন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘সকাল থেকে হোয়াটস অ্যাপে ভুয়ো প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আমরা পরীক্ষা করে দেখি পুরোটাই ভুয়ো। পর্ষদকে সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ জানাতে বলেছি। একধরনের অন্তর্ঘাত, ষড়যন্ত্র চলছে যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই পরীক্ষা সফলভাবে না নিতে পারে। কোথাও কোনও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। সাইবার ক্রাইম পুরো অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এর পাশাপাশি এদিনের পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে পর্ষদের ভূমিকার প্রশংসাও করে ব্রাত্য বলেন,পর্ষদকে অভিনন্দন এবং কৃতজ্ঞতা জানাব আমি। পর্ষদ সহযোগিতা না করলে ৭ লক্ষ পরীক্ষার্থী এ ভাবে পরীক্ষা দিতে পারতেন না। আর মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা এবং নির্দেশ না থাকলে, এ ভাবে পরীক্ষা নেওয়া যেত না।’

এদিকে পরীক্ষার আগের দিনই একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে গৌতম পাল বলেছিলেন,‘প্রশাসন এবং সরকারের কাছে খবর আছে যে,অনেকেই এই পরীক্ষা ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে চাইছে। আমার কাছে প্রচুর মেসেজ আছে। প্রশাসন যথেষ্ট সতর্ক রয়েছে। কোনও পরীক্ষার্থী যদি আমাদের পরীক্ষাবিধি ঠিকমতো পালন না করে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে বা বাইরের কোনও ব্যক্তি যদি বিঘ্ন ঘটাতে চান, আমরা প্রশাসনের কাছে কঠোরতম শাস্তির সুপারিশ করব।’

একটু যদি ফ্ল্যাশ ব্যাকে যাওয়া যায় তাহলেই দেখা যাবে ভুরিভুরি অভিযোগ  বিগত দুবারের টেট পরীক্ষা কে নিয়ে। নজিরবিহীনভাবে নেতা মন্ত্রী ও আমলারা জড়িয়েছেন কেলেঙ্কারিতে। অভিযোগের তদন্ত শুরু হতেই প্রশাসনিক কেষ্ট বিষ্টুরা গেছেন শ্রীঘরে। অনৈতিকভাবে চাকরি পেয়ে মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এবারও অভিযোগ উঠছে।ফলে পাঁচ বছর পরে টেট দিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখে ডরাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। এখন দেখার এত ঘটা করে টেট পরীক্ষার ফল কী হয়? একরাশ যুবক-যুবতীর  বেকারত্বের গ্লানি কী দূর করে আশার আলো দেখাবে টেট নাকি এ কেবলই পর্বতের মূষিক প্রসবের দিনের প্রতীক্ষা?

About Post Author