Home » বাস্তবে স্বচ্ছ নিয়োগ কি হবে টেটে?

বাস্তবে স্বচ্ছ নিয়োগ কি হবে টেটে?

সময় কলকাতা : অবশেষে দীর্ঘ ৫ বছর পর রাজ্যে ফের টেট শেষ হল। কোথাও কোথাও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলেও মোটের ওপর যে নির্বিঘ্নে টেট শেষ হয়েছে, তা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এবারের টেট পরীক্ষায় এখনও পর্যন্ত আপাতদৃষ্টিতে স্বচ্ছ ও স্বাভাবিক। এখন প্রশ্ন, এবার কি স্বচ্ছ নিয়োগ হবে ?

২০১৭ সালে শেষ টেট হয়। আর তার ইন্টারভিউ হয় ২০২১ সালে। এরমধ্যেই ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। মামলার জল গড়িয়েছে হাইকোর্ট পর্যন্ত। হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। দোসর হয়েছে ইডি। শ্রীঘরে রয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মানিক ভট্টাচার্য সহ পর্ষদের অধিকাংশ আমলারাই। পেশ হওয়া চার্জশিটে নিয়োগের বিনিময়ে বৈআইনিভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, আমলা থেকে শুরু করে পর্ষদের চেয়ারম্যান সহ নেতা-মন্ত্রীদের স্থাবহ-অস্থাবর সম্পত্তির হদিশ, একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা, মিডলম্যানদের কারবার — এসবও দেখেছে বাংলা। এই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যেই ৫ বছর পরে রাজ্যে প্রাথমিকের টেট সম্পন্ন হল। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মোট পরীক্ষার্থী ৬ লক্ষ ৯০ হাজারেরও বেশি। ১ হাজার ৪৬০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা চলছে। কারচুপি এড়াতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। শনিবারই টেট নিয়ে আঙুল তুলেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হুগলির চুঁচুড়ায় জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছে রবিবারের টেটের প্রশ্ন। আগাম দিতে হচ্ছে পাঁচ লক্ষ টাকা।

 

একেতেই দুর্নীতির অভিযোগে স্পৃষ্ট রাজ্য। তারওপর আয়োজিত টেট নিয়ে বিরোধী দলনেতার বিস্ফোরক মন্তব্য। এসবের মাঝেই রাজ্যে টেটের আয়োজন। তাই প্রশাসনের দিক থেকে বাড়তি দায়িত্ব ছিল নির্বিঘ্নে টেট সম্পূর্ণ করা। রবিবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে পরীক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে ভিড় জমাতে শুরু করেন। তবে, নির্বিঘ্নে পরীক্ষা আয়োজনের মাঝেও যেন বেশ কয়েকটি জায়গায় বিভ্রাটের ছাপ থেকেই গেল। রবিবার সকালেই উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যাগ রাখতে গিয়ে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলেন পরীক্ষার্থীরা। এদিকে, বারাসাতের নবপল্লী হাই স্কুলে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ ওঠে। বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয় পরীক্ষার্থীদের। এমনকী, হাতের শাখা-পলা জোর করে খুলতে বলারও অভিযোগ ওঠে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। খড়দহ খড়দা কল্যাণ নগর বিদ্যাপীঠ পরীক্ষা কেন্দ্রের ঠিকানা বিভ্রাটের কারণে ভোগান্তির শিকার হতে হয় বেশকিছু পরীক্ষার্থীকে। অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি ব্রাম্ভ বালিকা বিদ্যালয়ে জুতো খুলে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। অপরদিকে, রামনগর থানার নিমতলা হাই স্কুলে একটি টেট পরীক্ষা কেন্দ্রের গেট থেকে ১০০ মিটারের মধ্যেই জেরক্সের দোকান খোলা রাখার ছবিও উঠে আসে সময় কলকাতার ক্যামেরায়। যদিও, খবর পেয়েই রামনগর থানার ওসি দ্রুত দোকান বন্ধ করে দেন। শুধু তাই নয়, শহর কলকাতেও বিশৃঙ্খলার খবর শিরোনামে ওঠে আসে। এদিন যাদবপুর বিদ্যাপীঠে পরীক্ষার্থীদের ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিধাননগরের একটি স্কুলেও একই অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ায়। উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষত যে গভীরভাবে পরীক্ষার্থীদের মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এরমধ্যেই মনে সংশয় নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের দিকে রওনা দেন বহু পরীক্ষার্থী।


শুধুই পরীক্ষাকেন্দ্রের বিভ্রাট নয়, কোথাও যানজটের কবলে পরীক্ষার্থীরা, কোথাও আবার ১১টার পর পৌঁছনোয় অনেককে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ চাকরি পরীক্ষার্থীদের। তাতে পরিস্থিতি তেতে উঠলে পরীক্ষাকেন্দ্রের উপরই সিদ্ধান্তের ভার ছাড়ে পর্ষদ। তবে, এসবের মাঝেও ভালো ছবিও উঠে আসে সময় কলকাতার ক্যামেরায়। বীরভূমে দুবরাজপুরের বিধায়ক অনুপ কুমার সাহার তৎপরতায় টেট দিতে পারলেন এক পরীক্ষার্থী। এদিক-ওদিন বেশ কয়েকটি অভিযোগ থাকলেও মোটের ওপর নির্বিঘ্নেই হয়েছে টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট, জানিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তবে বিরোধীরা পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বলাইবাহুল্য,এর আগেও টেট হয়েছিল। আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল স্বচ্ছ নিয়োগ হবে। কিন্তু, দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই প্যানেল পর্যন্ত বাতিল হয়েছে এমন নজিরও রয়েছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতির পদে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই গৌতল পাল জানিয়েছিলেন, এবার থেকে নিয়োগ হবে স্বচ্ছ। সেই আশাতেই বুক বেঁধে ফের স্বপ্ন দেখছেন হবু শিক্ষকরা। শেষ পর্যন্ত কি প্রকৃতঅর্থে স্বচ্ছ নিয়োগ হবে ? দুর্নীতির অভিযোগের আবহে এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

About Post Author