Home » ডেডলাইন পিছিয়ে দিলেন শুভেন্দু ! শাসকদলের কটাক্ষ, ‘ভাওতাবাজি নয়তো?’

ডেডলাইন পিছিয়ে দিলেন শুভেন্দু ! শাসকদলের কটাক্ষ, ‘ভাওতাবাজি নয়তো?’

সময় কলকাতা ডেস্কঃ যেখানে দলের পরিসর বৃদ্ধি করতে মেঘালয় সফরে রয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেখানেই তারই বাড়ির অদূরে হাজরা মোড়ে সভা করে মমতার সরকারকে আক্রমণের উদ্দেশ্যে ঘোষিত নিজের ডিসেম্বর তত্ত্বের ডেডলাইন থেকে নিজেই সরে গেলেন বিরোধী দলনেতা। ১২, ১৪, ২১ – বঙ্গ রাজনীতিতে বছরের শেষ মাসের এই তিনটে তারিখে হয়তো গোটা দেশই নজর রেখেছে। এককালের মমতার সরকারের মন্ত্রী তথা বর্তমানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ১২, ১৪ এবং ২১ ডিসেম্বর ‘ধামাকা’ থাকবে। সেই রহস্য উন্মোচন ঘিরে শুভেন্দু কী বলেন, সেদিকেই কৌতূহল ছিল সবার। কিন্তু, সোমবার রীতিমতো সবার সেই কৌতূহলে জল ঢেলে ড্যামেজ কন্ট্রোল করে তিনি জানালেন, ‘‘১২ ডিসেম্বরটা ১৩ জানুয়ারি হবে। কিন্তু ১৪ ফেব্রুয়ারি হবে না।” বিস্তারিত জানান কেন পিছিয়ে দেওয়া সময়। বিরোধী দলনেতার কথায় “বিচারব্যবস্থার প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। বড় ডাকাত, ধেড়ে ইঁদুর ধরা পড়বেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যে অনেকেরই প্রত্যাশার গড়ে বালি পড়েছে। অনেকেই হতাশ হয়েছেন। আর সেটা ভালো করেই আন্দাজ করেছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। সেকারণেই হয়তো ১৩ জানুয়ারির কথা জানিয়ে কৌতূহল জিউয়ে রাখতে চাইলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। এদিন নন্দীগ্রামের বিধায়ক ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করলেন, বিজেপি অগণতান্ত্রিক নয়। ষোলোআনা গণতান্ত্রিক। ভেঙেচুরে সরকার গঠনের পথে বিজেপি হাঁটবে না। এদিন কলকাতার হাজরায় ‘প্রতিবাদ সভা’ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানালেন শুভেন্দু। মমতা-অভিষেকের এলাকায় দাঁড়িয়ে বললেন, ‘‘বাবুসোনারা লেজ গুটিয়ে পালিয়েছেন।’’ এদিন হাজরার সভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ১৪ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি রয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বর্ধিত হারে ডিএ দিতে হবেই। তা ছাড়া ২১ ডিসেম্বর এসএসসি মামলার শুনানি রয়েছে আদালতে। যদিও বিরোধী দলনেতার ডেটলাইন পিছনোর বিষয়টিকে কটাক্ষে বিঁধেছে শাসকদল।

বিরোধী দলনেতার একের পর এক মামলায় আদালতে শুনানির ডেট উল্লেখ করতে দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনেকেরই মনে প্রশ জাগছে, বিজেপি কি শুধুই আদালতের নির্দেশ নির্ভর বা ইডি-সিবিআই তদন্ত নির্ভর রাজনীতির পথে এগোচ্ছে? দলের সংগঠন কি তবে পোক্ত নয় ? প্রশ্ন, বিরোধী দল কি ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনের মাধ্যমে হওয়া বদলাতে পারছে না? শুধুই কি আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় বসে রয়েছে শাসকদলকে চাপে ফেলার জন্য? প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে !

About Post Author