Home » লালনের মৃত্যুতে মানবাধিকার কমিশনের মামলার শুনানি শেষ

লালনের মৃত্যুতে মানবাধিকার কমিশনের মামলার শুনানি শেষ

সময় কলকাতা ডেস্কঃ লালন শেখের রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে লালন মামলার শুনানি চলাকালী, কেন্দ্রীয় আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, সিবিআই হেফাজতে কীভাবে লালন শেখের মৃত্যু হল? তারই তদন্ত শুরু করেছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মহেশ কুমার মিত্তালের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তবে, লালন শেখের রহস্যমৃত্যুতে মানবাধিকার কমিশনের করা মামলার শুনানি ইতিমধ্যেই শেষ। রায়দান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।


প্রসঙ্গত, বগটুই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত লালন শেখের রহস্যমৃত্যুর কিনারা করতে সিবিআইএর অস্থায়ী ক্যাম্পের পর শুক্রবার লালন শেখের বাড়িতে পৌঁছয় ফরেন্সিক টিম। সেখানে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় লালনের স্ত্রীকে। সিআইডি আধিকারিকদের একটি দল পৌঁছন বগটুইয়ে। ইতিমধ্যেই রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে গিয়ে লালন শেখের স্ত্রী রেশমা বিবির বয়ান রেকর্ড করেছেন সিআইডি-র গোয়েন্দারা। সিবিআই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তাঁর যাবতীয় অভিযোগ শুনেছে সিআইডি। লালনের মৃত্যুর পর বগটুই গ্রামে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লালনের স্ত্রী রেশমা বিবি তিন পাতার অভিযোগ করেছিলেন। যেখানে কিনা অন্তত ৭ জন সিবিআই আধিকারিকের নাম ছিল। লালন শেখের মৃত্যুতে তাঁদের কী ভূমিকা ছিল, কেন তাঁদের নাম এফআইআর-এ রয়েছে, সেগুলিও এদিন জানতে চায় সিআইডি। একইসঙ্গে লালনের স্ত্রী জানিয়েছিলেন, মামলা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সিবিআইয়ের তরফে তাঁর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন লালনের স্ত্রী।


উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের বুধবারই সিবিআই অফিসারদের গ্রেফতারের দাবিতে, লালন শেখের দেহ নিয়ে রামপুরহাটের সিবিআই ক্যাম্প অফিসের সামনে ধর্নায় বসেছিল পরিবার। সিবিআইয়ের আধিকারিকদের গ্রেফতারির দাবিতে অনেকের হাতেই ছিল প্ল্যাকার্ড। প্রথমে সিবিআই হেফাজতে মৃত লালন শেখের পরিবার প্রথমে দেহ নেবে না বলে জানায় পরিবার। মঙ্গলবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে লালনের স্ত্রী রেশমা বিবি জানান, যতক্ষণ না অভিযুক্ত সিবিআই কর্তারা গ্রেফতার হচ্ছে ততক্ষণ তাঁরা দেহ নেবেন না। এরপর বুধবার সকালে লালনের দেহ নিতে রাজি হয় পরিবার। রামপুরহাট হাসপাতাল থেকে থেকে দেহ বগটুই গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পরিজনরা হঠাৎই দেহ নিয়ে সিবিআইয়ের অস্থায়ী ক্যাম্প অফিসের সামনে পৌঁছে যান। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। প্রায় আধঘণ্টা ধরে সিবিআই অফিসের বাইরে বিক্ষোভ দেখান লালনের পরিজনরা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশের একটি সূত্রে আগেই জানা গিয়েছে, লালনকে ‘পার্শিয়াল হ্যাঙ্গিং’ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ মাটিতে পা ঠেকে ছিল। ছবিতেও তাই দেখা গিয়েছে। লালনের মৃত্যু রহস্যের তিনটি দিক। প্রশ্ন অনেক। এখন প্রশ্ন, কে এই লালন শেখ ? বীরভূমের রামপুরহাটে খুন হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা ভাদু শেখ। মৃত্যুর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই বগটুই গ্রামের একাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো নারকীয় ঘটনা ঘটে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাটা ছিল ৮। যদি, এই হিসেবের হেরফের রয়েই গিয়েছে। অভিযোগ হল, ওভাবে এতগুলো মানুষকে পুড়িয়ে মারার ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছিল লালন শেখ। অর্থাৎ বগটুই গণহত্যার ঘটনায় লালনই অন্যতম অভিযুক্ত। চলতি মাসেই ঝাড়খণ্ডের পাকুড় থেকে গ্রেফতার করা হয় লালনকে। জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে সিবিআইয়ের অস্থায়ী শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ২ জন সিবিআই আধিকারিক এবং ১ জন কেন্দ্রীয় জওয়ান।।

About Post Author