Home » আবাস যোজনার খরচের হিসেব চাইল কেন্দ্র

আবাস যোজনার খরচের হিসেব চাইল কেন্দ্র

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৪ জানুয়ারিঃ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় পূর্বের কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দের হিসেব রাজ্যের কাছে চাইল কেন্দ্র। এমনকী আগের সমস্ত খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে সেই হিসেব পাওয়ার পরই পরবর্তী বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে নবান্ন কে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রক। নবান্ন সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক ৪৯৩ পৃষ্ঠার চিঠি পাঠিয়েছে নবান্নকে। তাতে বলা হয়েছে, এর আগে আবাস যোজনায় খরচের হিসাব নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল তার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। তার উত্তর আগে দেওয়া হোক, তবেই পরবর্তী বরাদ্দ হবে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় প্রাপকদের তালিকায় ব্যাপক গরমিলের অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। প্রায় প্রতিদিনই রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েত বিডিও অফিস ঘেরাও চলছে। এর আগেও কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্প, যেগুলি রাজ্য সরকার বাস্তবায়িত করে, তা নিয়ে একাধিকবার জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। কোনও ক্ষেত্রে আবার সিবিআই তদন্তেরও আর্জি জানানো হয়েছিল। প্রতি ক্ষেত্রে টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠেছে। এবারও প্রধান মন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে তালিকায় গরমিলের অভিযোগ উঠছে। এই সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিচারপতি রাজ্য সরকারের কাছে জবাবদিহি চাইতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। আদৌ আবাস যোজনার তালিকায় সঠিক প্রাপকদের নাম থাকছে কিনা। সেক্ষেত্রে যাঁদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, সেটিকে আদালতে জমা দেওয়ার কথাও বলতে পারেন বিচারপতি। বিরোধীদের অভিযোগ, আবাস যোজনার উপভোক্তাদের তালিকায় নাম থাকছে বিধায়কের আত্মীয়, স্থানীয় নেতৃত্ব কিংবা তাঁদের আত্মীয়দের। যাঁদের পাকা বাড়ি, গাড়ি রয়েছে, এহেন একাধিক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি পেয়েছেন বলে অভিযোগ। অথচ যাঁদের মাথার ওপর পাকা ছাদ নেই, তাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তালিকা থেকে।

উল্লেখ্য, “বাংলার আবাস” যোজনার আওতায় বাংলার ১১ লক্ষ ৩৬ পরিবারকে বাড়ি বানানোর খরচ হিসাবে গত নভেম্বর মাসেই ৮২০০ কোটি টাকা অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। এই প্রকল্পে কেন্দ্রের তরফে ৬০ শতাংশ এবং রাজ্যের তরফে ৩০ শতাংশ ব্যয় করা হয়। সেই অনুপাতে রাজ্যের দেওয়ার কথা সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। গত ৩১ মার্চের মধ্যে ওই টাকা উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেবার কথা ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্য জুড়ে রাজনীতি উত্তাল। শাসক দলের বিরুদ্ধে স্বজন পোষণের অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রককে অভিযোগ জানিয়ে চিঠি দেয় রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। এরপরই কেন্দ্রীয় দপ্তরের এহেন চিঠি নবান্ন কে।

About Post Author