সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ জানুয়ারিঃ বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে। সোমবার মুর্শিদাবাদ সফরে এসে এভাবেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত সোমবার মুর্শিদাবাদ সফরে সাগরদীঘিতে এক সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় তোপ দাগেন তিনি। প্রয়াত বিধায়ক সুব্রত সাহার প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করে মমতা মুখ খোলেন তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেনের বাড়িতে আয়কর হানার ঘটনায়। জাকির হোসেন শুধুমাত্র তৃণমূল করেন বলে তার বাড়িতে আয়কর হানা বলেই দাবি করেন মমতা। গত ১২ জানুয়ারি জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেনের বাড়িতে হানা দেয় আয়কর দপ্তর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁর বাড়ি, অফিস, বিড়ি কারখানায় চলে চিরুনি তল্লাশি। নগদ মোট ১১ কোটি টাকা উদ্ধার করেন আয়কর আধিকারিকরা। যদিও ওই টাকা আয় বহির্ভূত নয় বলেই দাবি করেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। এদিন কেন্দ্রের পদক্ষেপের বিরোধিতায় সরব হন মমতা।

তিনি বলেন, “জাকির একটা বিড়ি শিল্পপতি। তার যে ২০ হাজার বিড়ি শ্রমিক আছে জানোনা? কটা বিড়ি শ্রমিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে? কটা গ্রামে ব্যাংক আছে? জাকির তৃণমূল করে বলে এই অবস্থা। বেছে বেছে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে এজেন্সি পাঠাচ্ছে। এমনকি মমতা অভিযোগ করেন, জাকিরকে প্রাণে মারার চেষ্টা করেছিল কেন্দ্র । জাকিরকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। দোষ করলে জাকিরকে শাস্তি দাও।” নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকেও এদিন খোঁচা দেন মমতা। বলেন, “আমার দুর্ভাগ্য কোনও একজনকে এখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সে বেছে বেছে আমাদের লোকেদের বাড়ি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসারদের পাঠাচ্ছে।”

কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার কর্মীকে বঙ্গভবন থেকে গ্রেফতার করে হয়েছে। আমি আমার মুখ্যসচিবকে বলব, বঙ্গভবন রাজ্য সরকারের সম্পত্তি। কেউ যদি বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে আমাদেরও আইনত ব্যবস্থা নিতে হবে। গুজরাট পুলিশ সঙ্গে দিল্লি পুলিশকে এনে বঙ্গভবনের সমস্ত সিসিটিভি খুলে নিয়েছে।” এদিন সাকেত গোখেলের গ্রেপ্তারি নিয়েও সুর চড়ান মমতা। তিনি বলেন, “বঙ্গভবন থেকে গ্রেপ্তার করেছে। রাজস্থান থেকে গ্রেপ্তার করেছে। গণতন্ত্রে যারা বুলডোজার চালায় তাদের বলি বুলডোজারের পরিবর্তে বুলডোজার নয়। তাদের ক্লোজার হবে।” পঞ্চায়েত নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, শাসক-বিরোধী আক্রমণের ঝাঁজ যে তত বাড়ছে তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।


More Stories
শান্তি নেই শ্মশানেও -বঙ্গভূমির করুণ আখ্যান
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা