সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ মার্চ: মিলল না জামিন। ফের জেলেই ঠাঁই হল বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির। আসানসোল কম্বলকাণ্ডে বিজেপি নেতাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল আসানসোল আদালত। ১ দিনের পুলিশি হেফাজত শেষে মঙ্গলবার ফের আদালতে পেশ করা হয়েছিল আসানসোলের প্রাক্তন মেয়রকে। এদিন আসানসোল সিজেএম আদালতে জিতেন্দ্রর কম্বল বিতরণ নিয়ে মামলার শুনানির শুরুতেই সরকারি আইনজীবী জিতেন্দ্রকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজত দেওয়ার আবেদন জানান।
আরও পড়ুন আসানসোল কম্বলকাণ্ডঃ ফের আদালতে পেশ জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে
আইনজীবী বলেন, ‘কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে যে বিদ্যুতের বিল দেখানো হয়েছে তা ভুয়ো, ওই দিন যে ডেকরেটর কাজ করেছিলেন তাঁর লাইসেন্স নেই, ৩ হাজার কম্বল কিনে ৬ হাজার কুপন বিলি করা হয়েছিল। তদন্তে নেমে এরকমই নানা তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাই ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণ জানতে পুলিশি হেফাজত নেওয়া যেতে পারে।’ হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে তদন্ত বিনা বাধায় অগ্রসর হবে। তাই তদন্তের স্বার্থেই জিতেন্দ্র কে আবার পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যদিও সরকারি আইনজীবীর যুক্তির পাল্টা বিরোধিতা করে জিতেন্দ্রর জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। এদিন প্রায় দু-ঘণ্টার শুনানিতে টানটান উত্তেজনা শেষে জিতেন্দ্রকে জেল হেফাজতে পাঠালেন বিচারক।

উল্লেখ্য, আসানসোল কম্বল বিতরণকাণ্ডে পদপিষ্টের ঘটনায় বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে ১৮ মার্চ গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর ১৯ মার্চ সকাল তাঁকে আসানসোল জেলা আদালতে তোলা হয়। এদিন মামলার শুনানি শেষে জিতেন্দ্রকে আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও এজলাসে তাঁর হয়ে কোনও আইনজীবী ওইদিন সওয়াল করেননি। এমনকী আদালতে জামিনেরও আবেদন করেননি তিনি। এ প্রসঙ্গে জিতেন্দ্র বিচারককে জানিয়েছিলেন, তিনি নিজেই লড়বেন নিজের মামলা। কার্যত সেকারণেই তিনি নিজে আদালতের সামনে ওইদিন জামিনের জন্য আবেদনও জানান। কিন্তু,বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাকে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ ডিসেম্বর আসানসোল পুরনিগমের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের রেলপারের রামকৃষ্ণ ডাঙালে শিবচর্চা ও মেগা কম্বল বিতরণী অনুষ্ঠান হয়। বকলমে, এই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ছিলেন আসানসোল পুরনিগমের বিরোধী দলনেত্রী চৈতালি তেওয়ারি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনায় পদপিষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। মৃত ঝালি বাউরির ছেলে সুখেন বাউরি পরের দিন আসানসোল উত্তর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ একটি মামলা করে। অনিচ্ছাকৃত খুন-সহ তিনটি ধারায় একটি এফআইআর হয়। তাতে জিতেন্দ্র তিওয়ারি, চৈতালি তিওয়ারি-সহ নির্দিষ্ট করে ১০ জনের নাম ছিল। জিতেন্দ্র তিওয়ারি ছাড়াও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬ জন।


More Stories
নেতা নয় নায়ক, যমের অরুচি, ঋতব্রতকে ভয়ঙ্কর আক্রমণ শতরূপের
চাকরি পাওয়া নিয়ে দীপাঞ্জনকে পাল্টা জবাব দিলেন মীনাক্ষী
ঋতব্রতদের সম্পর্কে কুণাল ঘোষের বক্তব্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ?