সময় কলকাতা ডেস্ক,২৮ মার্চঃ বুধবার শহিদ মিনারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সভার জন্য বেশকিছু শর্ত দিয়েছেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। বুধবার অর্থাৎ ২৯ মার্চ শহিদ মিনারের পাদদেশে তৃণমূল ছাত্র-যুব সমাবেশ রয়েছে। সেখানেই বক্তৃতা করবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শহিদ মিনার থেকে সভা অন্যত্র সরানোর দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন ডিএ আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে এই মামলার শুনানিতে দীর্ঘ সওয়াল জবাবের পর বিচারপতি সভা করার অনুমতি দেন। নির্দেশ দেওয়ার সময় তিনি কিছু শর্তের কথাও জানান।
আরও পড়ুন নিশীথ প্রামাণিকের কনভয়ে হামলার ঘটনার তদন্তভার গেল সিবিআইয়ের হাতে

আদালত জানায়, ‘পুরো সভায় সিসিটিভি নজরদারি করতে হবে। সেই সঙ্গে ভিডিওগ্রাফি করতে হবে। শহিদ মিনার ময়দানে যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে তা নিশ্চিত করবে পুলিশ। ডেপুটি কমিশনার ও জয়েন্ট কমিশনারকে নজর রাখতে বলেন শুধু তাই নয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবেন। জনসভা যেখানে হবে সেখানে বাঁশ দিয়ে পুরো জায়গা ঘিরে দিতে হবে। একদিনের অনুষ্ঠান হলেও সেখানে আগে থেকেই যাঁরা অবস্থান আন্দোলন করছেন তাঁদের কোনওভাবেই বিরক্ত করা যাবে না। সভা থেকে কোনও উস্কানিমূলক বক্তব্য পেশ করা যাবে না। সভার পরে সভাস্থল পরিষ্কার করতে হবে। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে হবে। সভা হয়ে গেলে ব্যারিকেড খুলে ফেলতে হবে।
আরও পড়ুন সাংসদ পদ হারানোর পর সরকারি বাংলো ছাড়তে প্রস্তুত রাহুল গান্ধি

যদিও এই মামলার শুনানিতে মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘শহিদ মিনারে সামনে লাগাতার যৌথ মঞ্চের আন্দোলন চলছে। সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানেই সভা করছে তৃণমূল।’ অন্যদিকে,রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্র মুখোপাধ্যায় বলেন, জানুয়ারি মাস থেকেই ডিএ আন্দোলনকারীরা ওখানে আন্দোলন করছেন। সেখান থেকে ১১০ মিটার দূরে এই রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি রয়েছে। পুলিশ যথেষ্ট তৎপর। তিনটি গেট করা হয়েছে। সভাস্থল পুরো ব্যারিকেড দিয়ে ঘেরা হয়েছে। সভা করার অনুমতি সেনাও দিয়েছে। কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে না হয় তার জন্য তৈরি পুলিশ।

আরও পড়ুন বেলুড় মঠ–শান্তিনিকেতন পরিদর্শনে রাষ্ট্রপতি, শহর জুড়ে কড়া নিরাপত্তা
প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের ৩১ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছিল। সেই মামলারই শুনানি ছিল। রাজ্যের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে কর্মচারিদের ডিএ দিতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। যা রাজ্য সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের দাবি, ডিএ তাঁদের অধিকার। তা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। হাইকোর্টের নির্দেশের পরও রাজ্য সরকার ডিএ না দেওয়ায় সম্প্রতি আন্দোলনে নেমেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলির যৌথমঞ্চ। ধর্মতলায় শহিদ মিনারের নিচে তাঁরা অনশন আন্দোলন শুরু করেছেন। বাম-কংগ্রেস, বিজেপি-সহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল আন্দোলনকারীদের সমর্থন করছে। এরমধ্যে প্রতীকী ধর্মঘটও করেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে বারবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় সমাধান সূত্র বের হতে দেরি হচ্ছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?
অভিষেকের পরে কল্যাণ