Home » হাতে হ্যারিকেন নিয়ে রাজপথে গ্রুপ ডি চাকরিপ্রার্থীরা

হাতে হ্যারিকেন নিয়ে রাজপথে গ্রুপ ডি চাকরিপ্রার্থীরা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ মে: হাইকোর্টের অনুমতিতে পরিবর্তিত রুটে হচ্ছে মিছিল। শহিদ মিনার থেকে কালীঘাটে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। ২০০ হ্যারিকেন হাতে মিছিল করবেন চাকরিপ্রার্থীরা। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে মিছিল থেকে কোনও রকম উস্কানিমূলক মন্তব্য করা যাবে না। হরিশ মুখার্জি রোড বাদ দিয়ে করতে হবে মিছিল। সেই মতোই ডিএ আন্দোলনকারীদের মিছিল ৩ নাগাদ মিছিল শুরু হয় এদিন। মমতা-অভিষেকের পাড়ায় কালীঘাট পর্যন্ত মিছিলের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন গ্রুপ ডি এর চাকরিপ্রার্থীরা। অবশেষে আদালতের নির্দেশ মত রাজপথে মহামিছিলের পথে গ্রুপ-ডি এর চাকরিপ্রার্থীরা। হাইকোর্টের অনুমতিতে পরিবর্তিত রুটে হচ্ছে মিছিল। শহিদ মিনার থেকে কালীঘাট পর্যন্ত হয় মিছিল। ২০০ লণ্ঠন হাতে মিছিল করেন চাকরিপ্রার্থীরা। নয়া নির্দেশ অনুযায়ী আশুতোষ মুখার্জী রোড হয়ে মিছিল যায় কালীঘাটে। হাইকোর্টের অনুমতিতেই এই পরিবর্তিত রুটে হচ্ছে মিছিল।

২৬৮ দিন ধরে মাতঙ্গিনি হাজারার মূর্তির নীচে আন্দোলন করছেন গ্রুপ-ডি এর চাকরিপ্রার্থীরা। কিন্তু, আন্দোলনকারীদের দাবি তারপরেও হুঁশ ফেরেনি, নড়েনি টনক। সেই কারণেই তাঁরা আজ লণ্ঠন নিয়ে রাজপথে। গ্রুপ ডি-তে বঞ্চিতরা এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮টা অবধি মিছিল করার কর্মসূচি নিয়েছে। শহিদ মিনার থেকে শুরু করে সেই মিছিল শেষ হবে কালীঘাট থানার কাছে। আগে এই মিছিল শহিদ মিনার হয়ে হরিশ মুখার্জি রোড ধরে কালীঘাট থানার কাছে পৌঁছনোর কথা ছিল। অর্থাৎ সেই মিছিল যেত মমতার পাড়ার মধ্যে দিয়ে। পুলিশ সেই মিছিলের রুটে আপত্তি জানায়। সিঙ্গল বেঞ্চ যদিও পুলিশের আপত্তি মানেনি। মুখ্যমন্ত্রীর পাড়া দিয়েই মিছিল করার অনুমতি দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার দুপুরে ডিভিশন বেঞ্চ সেই মিছিলের রুট বদলে দেয়।

আরও পড়ুন    শুভেন্দু অধিকারীর ‘কনভয়ে’র ধাক্কায় যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বস্তি শুভেন্দুর

উল্লেখ্য,এর আগে ২০১৬ সালে গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ ছিল, যোগ্যদের সরিয়ে ‘অযোগ্য’দের চাকরি দেওয়া হয়েছে। সেই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তদন্তের ভিত্তিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৯১১ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বেতন ফেরতের কথাও বলেন বিচারপতি। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, বরখাস্ত করার পর যে শূন্যস্থান তৈরি হবে তা অবিলম্বে পূরণ করতে হবে। ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থীদের থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দিতে হবে। তারপরই চাকরিহারারা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যান। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ, সিঙ্গল বেঞ্চের বেতন ফেরতের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। তবে চাকরি বাতিল ও নতুন নিয়োগের বিষয়ে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ বহাল থাকে ডিভিশন বেঞ্চেও। ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান চাকরিহারাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় তাঁদের কোনও কথা না শুনেই চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন। গত ৩ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট, নতুন নিয়োগের ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়।

About Post Author