Home » বালেশ্বরে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার তদন্তভার হাতে নিল সিবিআই

বালেশ্বরে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার তদন্তভার হাতে নিল সিবিআই

সময় কলকাতা ডেস্ক,৬ জুনঃ কী ভাবে ঘটল বালেশ্বরের ট্রেন দুর্ঘটনা? এটা নিছক দুর্ঘটনা না কি নেপথ্যে রয়েছে অন্তর্ঘাত? ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্তে নামে রেল বোর্ড ও ওড়িশা সরকার। এবার বালেশ্বরে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার তদন্তভার হাতে নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ওই দুর্ঘটনায় সরকারের কাছে সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করছে রেল বোর্ড। এমনটাই জানিয়েছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রেল দুর্ঘটনার পর এফআইআর দায়ের করেছে জিআরপি। তার পরিপ্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার সিবিআইয়ের ১০ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সিবিআইয়ের প্রতিনিধি দল দুর্ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখেন। দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করবেন বলেই জানা গিয়েছে। সেই সঙ্গে নেওয়া হবে ওই দুর্ঘটনার সময় কর্তব্যরত রেলকর্মীদের বয়ানও। রেলের হিসাব অনুযায়ী ওই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৮৮ জনের। যদিও ওড়িশা সরকারের হিসাব অনুযায়ী দুর্ঘটনায় মৃত ২৭৫ জন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা দ্রুত প্রকাশ্যে আনতে পারবে সিবিআই।

আরও পড়ুন    রেল দুর্ঘটনায় নৈতিক দায়ের প্রশ্নে রেলমন্ত্রীর পদত্যাগ ও ইতিহাস (পর্ব ২)

প্রসঙ্গত,বালেশ্বরের রেল বিপর্যয়ের ঘটনায় পরিকাঠামো, সিগনালিং ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার মাঝেই বিপর্যয়ের প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মাথায় সোমবার সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রবিবার জরুরী ভিত্তিতে রেলবোর্ডের বৈঠক ডেকেছিলেন রেলমন্ত্রী। সেই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত যা তথ্য পাওয়া গিয়েছে, এবং আগামী তদন্ত যাতে যথাযথভাবে হয়, তার জন্য রেল বোর্ড সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করছে।’ এদিকে,বালেশ্বর রেল দুর্ঘটনার পর কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধীরা। সেই দাবিতে সামিল হয়ে দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ও বর্ষীয়ান নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। রেলমন্ত্রীর ইস্তফা প্রসঙ্গে এবার বিরোধীদের একহাত নিলেন বিজেপির সাংসদ ও সর্ব ভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “পদত্যাগ কোনো বিষয়ের সুরাহা নয়। যারা ভীরু তাঁরা পালিয়ে যায়। মমতা ব্যানার্জি অনেকবার এরকমভাবে পালিয়ে গিয়েছিলেন।”

আরও পড়ুন    কয়লা পাচার মামলায় ফের অভিষেক পত্নী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস ইডি-র

উল্লেখ্য,শুক্রবার সন্ধ্যায় এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। এদিন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ ওড়িশার বালেশ্বরের বাহানাগা বাজার স্টেশনের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িতে ধাক্কা মেরে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় হাওড়ার শালিমার থেকে চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস। একসঙ্গে করমন্ডল এক্সপ্রেস,যশবন্তপুর-হাওড়া এবং একটি মালগাড়ি দুর্ঘটনা কবলে পরে। পাশাপাশি ধাক্কা লাগে তিনটি ট্রেনের। করমন্ডলের পাশে ছিল মালগাড়ি। ওই ট্রেনটিকে ধাক্কা দেয় করমন্ডল এক্সপ্রেস। শালিমার-চেন্নাই করমন্ডল এক্সপ্রেসের মোট ১৫ টি কামরা লাইনচ্যুত হয়েছে। তার মধ্যে সাতটি কামরা উল্টে গিয়েছে। আরও চারটি কামরা ছিটকে গিয়েছে। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতই ছিল যে যাত্রীবাহী ট্রেনটির ইঞ্জিন উঠে যায় এক মালগাড়ির ওপর। ট্রেনের অধিকাংশ বগি ছিটকে পড়ে পাশের লাইনে। একই সঙ্গে পাশের লাইন থেকে আসা যশবন্তপুর- হাওড়া এক্সপ্রেস টিরও দুটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে যায়। রেল সূত্রে খবর, ভয়ঙ্কর ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ২৯০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। আহত ১২০০ এরও বেশি মানুষ

About Post Author