Home » পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ, প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দ্বারস্থ রাজ্য

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ, প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দ্বারস্থ রাজ্য

সময় কলকাতা ডেস্ক,৭ জুনঃ পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তারপর হাইকোর্টের পৃথক বেঞ্চ ও সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার সিবিআই তদন্তের বিরোধিতা করে আর্জি জানিয়েছিল। কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্ট মামলাটিকে হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেয়। মঙ্গলবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে মামলা করে রাজ্য। জানা গিয়েছে, সেই মামলা বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে পাঠিয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে অয়ন শীলকে গ্রেফতারের পরই পুর নিয়োগে দুর্নীতির বিষয় সামনে আসে। ইডি আদালতে জানায়, অয়নের সল্টলেকের অফিস থেকে যে নথি উদ্ধার হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে বাংলার অন্তত ৬০টি পুরসভায় বেআইনি নিয়োগ হয়েছে। তারপরেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় পৃথক এফআইআর দায়ের করে সিবিআইকে এই মামলায় তদন্তের নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশ মত পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে ২০০ কোটির হদিশ পেয়েছিল ইডি। সূত্রের খবর,নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত অয়ন শীল শুধুমাত্র পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকা তুলেছিলেন। ইতিমধ্যেই এই কথা অয়ন জেরায় স্বীকারও করেছেন বলেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে। কিছুদিন আগেই ইডি-র সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মী নিয়োগ করেই বিভিন্ন জায়গায় জমি কিনতে শুরু করেন অয়ন। পাশাপাশি নির্মাণ সংস্থা খুলে আবাসন প্রকল্পেও বিনিয়োগ করেন গুণধর অয়ন শীল।

আরও পড়ুন 

[contact-form][contact-field label=”Name” type=”name” required=”true” /][contact-field label=”Email” type=”email” required=”true” /][contact-field label=”Website” type=”url” /][contact-field label=”Message” type=”textarea” /][/contact-form]

ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত এই প্রোমোটার অয়ন শীলের নামে বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক লকারেরও সন্ধান মিলেছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত অয়ন শীলের ৪২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। কার্যত সেকারণেই আয়কর দফতর থেকে অয়ন সহ পরিবারের সব সদস্যদের গত ৫ বছরের আয়কর রিটার্নের নথি পেশ করতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট গুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি রয়েছে অয়ন শীল,তাঁর স্ত্রী কাকলি শীল ও কোম্পানির নামে।

আরও পড়ুন    ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে, ১০ জুন পর্যন্ত বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা


উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীল এখন ইডির জালে। অয়ন গ্রেফতার হতেই ইডির হাতে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে অয়নের অফিস থেকে ৪০০ ওএমআর শিটের ফটোকপি উদ্ধার করে ইডি। সেইসঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা,অ্যাডমিট কার্ড ও একাধিক নথিও উদ্ধার হয়েছে। এমনকী শান্তনু ও অয়নের যৌথ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলেও ইডি সূত্রে খবর। এছাড়াও পুরসভার চাকরি সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, নিয়োগ দুর্নীতির যাবতীয় নথি লুকিয়ে রাখা ছিল অয়ন শীলের বাড়িতেই। অয়নের মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। একজন প্রোমোটারের বাড়ি থেকে কীভাবে নিয়োগের নথি উদ্ধার হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকে ২০১৪-১৫ সালে পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত ৪০০-রও বেশি ওএমআর শিট ও পাওয়া গিয়েছে। ইডি-র দাবি, রাজ্যের ৬০ পুরসভা মিলিয়ে পাঁচ হাজার চাকরি বিক্রি হয়েছে। আর তার বিনিময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। পুরসভার গাড়ির চালক,টাইপিস্ট,ক্লার্ক,গ্রুপ ডি, সাফাইকর্মী—একএকটা পদের জন্য একএকরকম দরে বিক্রি হয়েছে চাকরি।

About Post Author