সময় কলকাতা ডেস্ক,১৭ জুনঃ পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির খবর শিরোনামে এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে এখনও চলছে বোমা-বন্দুকের দাপাদাপি। বৃহস্পতিবার এই ভাঙড়ে মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-আইএসএফ কর্মীদের মধ্যে বিবাদের জেরে যে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, তাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এবার সেই ঘটনায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবারই বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে প্রার্থীদের এসকর্ট করে নিয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করে। সেই মতো পুলিশ যখন প্রার্থীদের এসকর্ট করে নিয়ে যাচ্ছিল, সেখানেই হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। সেখানে এক আইএসএফ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।

শুক্রবার গোটা ঘটনা নিয়ে ফের বিচারপতি মান্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সেই শুনানিতে বিচারপতি বলেন, চারদিন ধরে ভাঙড়ে লাগাতার বেলাগাম সন্ত্রাস চলছে। অবশ্যই এব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে হাইকোর্ট। সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস এবং নিরাপত্তার বিষয়ে আদালত চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না। বিচারপতি মান্থা আরও বলেন, এই ঘটনায় রাজ্যের ভূমিকা কী, সে ব্যাপারে জানাতে হবে আদালতে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
আরও পড়ুন তৃণমূল-আইএসএফ সংঘর্ষে উত্তপ্ত ভাঙ্গড়

উল্লেখ্য,বৃহস্পতিবার মনোনয়নের শেষপর্বেও রণক্ষেত্র ভাঙড়। মুড়িমুড়কির মতো বোমা পড়ছে ভাঙড় ২ বিডিও অফিসের বাইরে।চলে বেশ কয়েক রাউণ্ড গুলিও। তৃণমূল এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর সংঘর্ষে আবার অশান্ত হয়ে উঠল ভাঙড়। তার জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক আইএসএফ কর্মীর। জখম হয়েছেন দুই তৃণমূল কর্মীও। এমনটাই দাবি যুযুধান দুই পক্ষের। বুধবার যে অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছিল তা ফিরে এল বৃহস্পতিবারও। ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারের কাঁঠালিয়া মোড়ে আবার মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে গুলি চালানোরও। বাজারে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। চলছে পুলিশি টহলদারিও। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে প্রথম থেকেই থমথমে পরিস্থিতি ছিল ভাঙড়ে। ভাঙড়ের দু’টি বিডিও অফিস চত্বরেই জড়ো হন তৃণমূল এবং বেলা গড়াতেই আইএসএফ-এর কর্মীরা। এর পরেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
ভাঙ্গড় মনোনয়নের শেষপর্বে রণক্ষেত্র ভাঙড়,গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু আইএসএফ কর্মীর
প্রসঙ্গত, মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। ভোর হতেই শুরু হয় বোমাবাজি। ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি চলে। এমনকী বিডিও অফিস চত্বরঅ এদিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। দু-দলের কর্মী সমর্থকদের হাতাহাতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। মারামারির ছবি তুলতে গেলে বাধা দেওয়া হয় সাংবাদিকদের। তাঁদেরকেঅ এদিন মারধর করা হয়। এদিন শোভাযাত্রা করে মনোনয়ন দিতে যান তৃণমূল প্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, আইএসএফ বাধা দিলে যাতে প্রতিরোধ করা যায়, তার জন্য তৈরি হয়েই আসতে হয়েছে তাঁদের।আইএসএফ-সিপিআইএমের অভিযোগ,এদিন মনোনয়ন দিতে বাধা দেওয়ায় তৃণমূল আইএসএফ কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা, এমনকী গুলি চালায়। পাল্টা প্রতিরোধ করতে গেলে অগ্নিগর্ভ চেহারা নেয় ভাঙড়। ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই চলতে থাকে বোমাবাজি।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের