Home » পঞ্চায়েতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ, সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে রাজ্য ও কমিশন

পঞ্চায়েতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ, সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে রাজ্য ও কমিশন

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৭ জুনঃ রাজ্যে সর্বত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই করতে হবে পঞ্চায়েত ভোট। এমনই নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে রাজ্য। শুধু রাজ্য সরকার নয়, সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করে স্পেশাল লিট পিটিশন দাখিল করতে চলেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনও।পঞ্চায়েত ভোটে সব জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের নেতৃত্বে ডিভিশন বেঞ্চ যে রায় দিয়েছে, তাকে চ্যালেঞ্জ শুক্রবার রাতেই অনলাইনে মামলা দায়ের করে নবান্ন ও রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন   পঞ্চায়েত ভোটে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষণ কেন? কলকাতা হাইকোর্টে মামলা নির্বাচন কমিশনের

কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্রের কাছে রিক্যুইজিশন পাঠাতে হবে। সেই সময়সীমার আগেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে চাইছে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মতে, বাংলায় এমন পরিস্থিতি নেই যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে ভোট করাতে হবে।কলকাতা হাইকোর্টের ওই রায় ঘোষণার আগেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনা সেরে রেখেছিল নবান্ন ও নির্বাচন কমিশন। তারপর আদালতের রায় হাতে পাওয়ার পর কমিশনের কর্তারা বৈঠকে বসেন। নবান্নেও বৈঠক হয়। তারপর নথি তৈরি করে পিটিশন দাখিল করতে চলেছে নবান্ন ও নির্বাচন কমিশন।

পঞ্চায়েত ভোটের রায় ঘোষণা করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চ জানিয়েছিল, রাজ্যের স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। কমিশন ইতিমধ্যে যে সব জেলাকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছে, সেখানে আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রের কাছে রিক্যুইজিশন পাঠানো হোক। কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দাবি, পঞ্চায়েত মামলা চলাকালীন কমিশন একটি বা একাধিক জেলাকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করে কোনও রিপোর্টই পেশ করেনি। সে রকম কোনও প্রাথমিক মূল্যায়নও করেনি রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, কলকাতা হাইকোর্টে থেকে কোনও সুরাহা না পেলে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার পথ খোলা রাখছে। এ বিষয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা শুরু করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কর্তারা।

আরও পড়ুন   পঞ্চায়েত রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে হাইকোর্টে নির্বাচন কমিশন

পঞ্চায়েত নির্বাচন সংক্রান্ত জোড়া জনস্বার্থ মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার রায়দান স্থগিত রাখে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। দু’টি ধাপে এই মামলার সওয়াল-জবাব চলে। এদিন হাইকোর্টে সশরীরে হাজির ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিনে্র সওয়াল জবাব পর্বে বিচারক কমিশনকে আরও একবার পরিস্কার জানিয়ে দেন নির্বাচনের কাজে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ব্যবহার করা যাবে না।সওয়াল জবাব পর্বে রাজ্য সরকারের পক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নির্বাচনী নির্ঘণ্ট কী হবে তা ঠিক করার এক্তিয়ার নির্বাচন কমিশনেরই। আদালত এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।’এরপরেই কল্যাণের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম বলেন, ‘ জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত যদি যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নির্দেশ দিতেই পারে।’ শুধু তাই নয়। প্রধান বিচারপতি এও বলেন, ‘মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে, মানুষের নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করার দায়িত্ব আদালতের। সেটা ভুলে যাবেন না।

About Post Author