সময় কলকাতা ডেস্ক,৭ জুলাইঃ শুধু পঞ্চায়েতে ভোটগ্রহণ বা গণনার দিন নয়, ফল ঘোষণার পর অন্তত ১০ দিন বাংলায় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার এই মর্মে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের নেতৃত্বে ডিভিশন বেঞ্চ। বাংলায় নির্বাচনোত্তর হিংসার ঘটনা নতুন নয়। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত ভোটের বা একুশ সালে বিধানসভা ভোটের পর বিক্ষিপ্ত ভাবে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। পুরনো ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে মামলাকারীদের আইনজীবীরা এদিন হাইকোর্টে আবেদন করেন, ভোটের ফল ঘোষণার পরেও অন্তত ১০ দিন থেকে ২ সপ্তাহ কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হোক। প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম তাঁর নির্দেশ ঘোষণা করতে গিয়ে বলেন, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার অতীত দৃষ্টান্ত দেখে আদালতও মনে করছে ভোটের পর অন্তত ১০ দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে মোতায়েন থাকা উচিত। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যেন তাদের অবস্থান পঞ্চায়েতের নোডাল অফিসারকে জানান। এখানে নোডাল অফিসার বলতে বিএসএফের আইজি পদ মর্যাদার অফিসারকে বোঝানো হয়েছে, যিনি ফোর্স-কো-অর্ডিনেটরের কাজ করছেন।

এদিকে,পঞ্চায়েত মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, অন্তত ৮২ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করাতে হবে। অর্থাৎ কম করে ৮০০ কোম্পানি সেন্ট্রাল ফোর্স মোতায়েন করতে পঞ্চায়েত ভোটে। হাইকোর্টের নির্দেশের পর মোট ৩৩৭ কোম্পানি বাহিনী পাঠানোর ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কিন্তু বাকি ৪৮৫ কোম্পানি বাহিনী নিয়ে চুপ ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তবে সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিল, বাকি ৪৮৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠাতেও তারা প্রস্তুত। বিষয়টা হলফনামা দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টেও জানিয়েছে কেন্দ্রের আইনজীবী।
আরও পড়ুন “অশ্বত্থামা নয়, দ্রোণাচার্য হয়ে উঠুন “- রাজ্যপাল, রাজধর্ম ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনার

যদিও এখনও পর্যন্ত ঠিক রয়েছে যে পঞ্চায়েত ভোট এক দফাতেই হবে। অর্থাৎ এই এক দফা ভোটের জন্যই ৮২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ২০১৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটেও ৮২০ কোম্পানি সেন্ট্রাল ফোর্স মোতায়েন হয়েছিল। কিন্তু সেবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মাত্র ২৬০ কোম্পানি বাহিনী পাঠিয়েছিল। যেহেতু ভোটগ্রহণ পাঁচ দফায় হয়েছিল, তাই ওই ২৬০ কোম্পানি বাহিনীকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা হয়। এদিকে, কলকাতা হাইকোর্ট প্রথমে নির্দেশ দিয়েছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে পঞ্চায়েত ভোট করাতে হবে। হাইকোর্টের সেই নির্দেশের পর ২২ জেলার জন্য মাত্র ২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কারণ, তখন কমিশন জানিয়েছিল, তাদের হিসাবে স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা মাত্র ১৮৯ টি। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে হলফনামা পেশ করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তাতে বলা হয়েছে, পঞ্চায়েত ভোটে মোট বুথের সংখ্যা ৬১,৬৩৬।


More Stories
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ
কেক কেটে ঈদ উদযাপন