সানি রায়, সময় কলকাতা, ১৬জুলাই : পারিবারিক ত্রিকোণ প্রেমের ইতিহাস বহু পরিবারে অনর্থ ডেকে এনেছে। পুরাণ তার সাক্ষী। রামায়ণে বর্ণিত বালী ও সুগ্রিবের লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সুগ্রিবের স্ত্রী রুমা। প্রাণঘাতী যুদ্ধে মৃত্যু হয় বালীর। সুগ্রীব ও রুমার পুনর্মিলন হয়। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির চিত্র ভিন্ন ও মর্মান্তিক। দুরামারির রাঙাতি এলাকার বিমল – চুমকির মিলন হয়নি বরং তাঁদের প্রাণ হারাতে হল পরকীয়া এবং পরিবারের মধ্যেই বেড়ে ওঠা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের টানাপোড়েনে। একমাত্র নাবালক সন্তানের ভবিষ্যৎ ঢাকা পড়েছে অন্ধকারে।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চুমকি বিমলের ভাইয়ের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন যা বারবার পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সালিশি সভা করেও পরিবারে শান্তি আসেনি। অবশেষে বুধবার ঝগড়া করতে খট্টিমারি জঙ্গলের যেতে দেখেন বেশ কিছু প্রত্যক্ষদর্শী এবং পরবর্তীতে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিমল রায়ের ভয়েস মেসেজ যায় নাবালক পুত্রের কাছে – যেখানে স্ত্রীকে খুন করার কথা তিনি স্বীকার করেন। বিবাহ বহির্ভূত প্রেম এবং অশান্তিতে কার্যত ধ্বংস হয়ে গেল জলপাইগুড়ির বানারহাট ব্লকের পরিবার। অনাথ হয়ে পড়ল তাঁদের ১৫ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান। রাঙাতি-র ৪৫ বছর বয়সী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বিমল রায় বছর আটত্রিশের স্ত্রী চুমকিকে খুন করে নিজেও আত্মঘাতী হলেন।
উল্লেখ্য, মরাঘাট রেঞ্জের মধুবনি ৩নম্বর সেকশন এলাকা থেকে জঙ্গলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উদ্ধার হয় স্বামী ও স্ত্রীর দেহ। বুধবার সন্ধ্যেবেলা স্ত্রীর দেহের পাশে পাওয়া গিয়েছিল ছুরি। বৃহস্পতিবার সকালে আত্মঘাতী স্বামীর দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১৫ বছরের নাবালক কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে মা বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা এবং শোকস্তব্ধ। তবে সব হারানো সন্তানের পাশে মানবিকভাবে এসে দাঁড়িয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বিপন্ন কিশোরকে পুলিশ কর্তাকে আঁকড়ে ধরে থাকতে দেখা গিয়েছে, পিতা-মাতা হারানো বুকে ধরে রেখে মানসিক ও মানবিক আশ্রয় দিতে দেখা গিয়েছে পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ আধিকারিকদের যা এই মর্মান্তিক ঘটনার একমাত্র উজ্জ্বল দিক।।


More Stories
বাড়ি রং করাও ধ*র্ষণ! ঋতব্রতকে নিয়ে ধর্ষ*কের নতুন সংজ্ঞা মদনের
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ