Home » একটানা প্রবল বৃষ্টিতে ভাসছে রাজধানী দিল্লি, ফুঁসছে যমুনা!জারি হলুদ সতর্কতা

একটানা প্রবল বৃষ্টিতে ভাসছে রাজধানী দিল্লি, ফুঁসছে যমুনা!জারি হলুদ সতর্কতা

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৪ জুলাই: গত তিনদিন ধরে দিল্লিতে রেকর্ড হারে বৃষ্টিপাত হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে কার্যত ভাসছে রাজধানী। বিগত ৪৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে যমুনা নদীর জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। রীতিমতো ফুঁসছে যমুনা নদী। বৃহস্পতিবার রাত থেকে আরও বেড়েছে যমুনা নদীর জলস্তর। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় জলস্তর পৌঁছে গিয়েছে ২০৮.৪৬ মিটার। সকাল ৮টা নাগাদ এই জলস্তর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৮.৪৮ মিটার। নদীর আশপাশের অঞ্চলে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।  হরিয়ানার হাতনিকুণ্ড বাঁধ থেকে জল ছাড়ার জেরে পরিস্থিতি আরও বেগতিক হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপের দিকে গেছে যে শহরেও জল ঢুকছে হু হু করে। এমনকী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবন সংলগ্ন এলাকাও ভাসছে যমুনা নদীর জলে। এই জরুরি অবস্থায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে রাজধানী শহরে।

হরিয়ানার বাঁধ থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার কারণেই দিল্লিতে বন্যা পরিস্থিতি বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বন্যা পরিস্থিতির জেরে দিল্লির রিং রোডের সিভিল লাইন, মঞ্জু কা টিলা, কাশ্মীরি গেট সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এই এলাকা মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবন থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্ব। যা কার্যত জলের নীচে ডুবে গিয়েছে। কাশ্মিরী গেট সংলগ্ন অঞ্চলেই রয়েছে দিল্লি বিধানসভা। বোট ক্লাব, মনেস্ট্রি মার্কেট, যমুনা বাজার, গীতা ঘাট, খাড্ডা কলোনি, মঞ্জু কা টিলা থেকে ওয়াজিরাবাদ, ময়ূর বিহার প্লাবিত। একদিকে জলমগ্ন দিল্লি, অন্যদিকে যমুনার জলস্তর বেড়ে তা ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে রাজধানীকে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোট ১৬টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। এদিন মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

আরও পড়ুন    প্রবল বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হিমাচল,চোখ রাঙাচ্ছে বিয়াস-সহ একাধিক নদী

এদিকে, বর্ষার তাণ্ডবলীলায় বিপর্যস্ত হিমাচলপ্রদেশ সহ সমগ্র উত্তর ভারত। একটানা ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে পথঘাট, ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি। ভূমিধসে ছিন্নভিন্ন পাহাড়ি এলাকা। রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ায় বিচ্ছিন্ন বহু জেলা। নেই বিদ্যুৎ, জল, ইন্টারনেট পরিষেবা। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। সরকারি তথ্য বলছে, অন্তত ৯০ জন মারা গেছেন এই রাজ্যে। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন জেলার ট্যুরিস্ট স্পটগুলিতে প্রচুর পর্যটক আটকে পড়েছেন। শনিবার থেকে স্পিতি উপত্যকার চন্দ্রতালের কাছে আটকে রয়েছেন বহু পর্যটক। বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের উদ্ধারের সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। হেলিকপ্টারে করে ওই অঞ্চল পরিদর্শন করছেন সরকারি আধিকারিকরা। হিমাচলের পাশাপাশি দুর্যোগ চলছে উত্তরাখণ্ডেও। একাধিক ভূমিধসের কারণে বদ্রীনাথ জাতীয় সড়ক-সহ বেশ কিছু রাস্তা বন্ধ। পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে।

About Post Author