Home » আর্থিক অনটনকে হারিয়ে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতার স্বপ্ন উত্তরপাড়ার অনিলের

আর্থিক অনটনকে হারিয়ে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতার স্বপ্ন উত্তরপাড়ার অনিলের

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বর: দেশের কোথাও বিপর্যয় হলেই ডাক পড়ে বিপর্যয় মোকাবিলা দলের। সে হরপা বান হোক, বা পাহাড়ের ধসে রাস্তায় আটকে পড়া পর্যটক উদ্ধার, কিংবা ডুবন্ত জাহাজ থেকে মানুষকে উদ্ধার করা। আর এসবের জন্যে চাই প্রকৃত ট্রেনিং।  আর সেই ট্রেনিং করতে করতেই এই ছেলের সামনে খুলে গিয়েছে কমনওয়েলথ গেমসের লাইভ সেভিং বিভাগে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ। তিনি অনিল কুমার সাউ। হুগলির উত্তরপাড়ার বাসিন্দা।

প্রতি দুই বছর অন্তর আয়োজিত হয় রয়্যাল লাইফ সেভিং সোসাইটি কমনওয়েলথ লাইফসেভিং চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্দ্যেশ্যে বিশ্বে বাড়তে থাকা প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় মানুষকে প্রস্তুত করা। এবছর কানাডার অন্টারিওতে বসতে চলেছে এই টুর্নামেন্টের আসর। আগামী ১৩ই সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে আরএলএসএস লাইফ সেভিং চ্যাম্পিয়নশিপ। চলবে ১৭ তারিখ পর্যন্ত। সারা ভারত থেকে মাত্র ১২জন এই প্রতিযোগিতায় নামার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। জাতীয় স্তরের টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে এই ১২ জনকে বাছাই করা হয়েছে। তার মধ্যে এরাজ্য থেকে সুযোগ পেয়েছেন দুজন। সেই দুজনের মধ্যে একজন অনিল।

আরও পড়ুন    রাজ্যপালের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর

তবে সুযোগ পেলেও অনিল ও তাঁর স্বপ্নের মধ্যে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। দাদা সুনীল সামান্য মাইনের চাকরি করেন। তবুও ভাইকে কমনওয়েলথ গেমসে পাঠাতে মরিয়া চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। রোজ সকাল থেকে সন্ধ্যায় ছুটে বেড়াচ্ছেন সাহায্যের জন্য। কেননা ভাইকে কানাডা পাঠাতে খরচ হবে প্রায় দু লক্ষ আটান্ন হাজার টাকা। কোথা থেকে আসবে এত টাকা? কে দেবে? সরকারি কোনও সাহায্য কি পাওয়া যাবে আদৌ? উত্তর জানা নেই কারও! এই পরিস্থিতিতে অনিলের পাশে থাকার জন্য রাজ্যের মানুষকে এগিয়ে আসর জন্য আহ্বান করেছেন অনিলের প্রশিক্ষক।

স্বপ্নপূরণের পথে প্রতিকূলতা রয়েছে। সেটা জানেন অনিল। আর প্রতিকূলতাকে হারিয়ে মানুষের জীবন বাঁচিয়ে রাখা যার কাজ। সেই এই প্রতিকূলতার কাছে নতি স্বীকার করবে কিকরে? তাইতো ছোট্ট ঘরের ছোট্ট বেঞ্চিতে শুয়েও স্বপ্ন দেখা ছাড়ছেন না অনিল। তাঁর স্বপ্ন একটাই, “প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ পদক জিতে গোটা তিরঙ্গা কাঁধে নিয়ে ছুটে চলেছে সে, আর পিছন থেকে কোটি কোটি ভারতীয় সমস্বরে চিৎকার করছে ‘ইন্ডিয়া…..ইন্ডিয়া…..’, ‘ফাইট….. অনিল…..ফাইট’!

About Post Author