সময় কলকাতা ডেস্ক, ১ সেপ্টেম্বরঃ রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতের মাঝেই এবার রাজ্যপালের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার সময়ে রাজভবন থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। যেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের যে ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদ খালি পড়ে রয়েছে, সেখানে উপাচার্যের পদ রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস নিজে সামলাবানে। জানা গিয়েছে,পড়ুয়াদের ডিগ্রি সংশাপত্র এবং অন্যান্য নথি পেতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাদের সুবিধার জন্য রাজ্যপাল নিজে আচার্য হিসাবে তাঁর ক্ষমতায় ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও যাবেন। শিক্ষার্থীদের কোনও অভিযোগ থাকলে শিক্ষার্থীরা তাদের অভিযোগগুলি amnesaamne.rajbhavankolkata@gmail.com ঠিকানায় ইমেল বা পিএইচ নং-এ পিস রুমে যোগাযোগ করতে পারবেন বলেই জানা গিয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আইনি পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যিনি আচার্য, তিনিই আবার উপাচার্য। কোন আইনে এটা রয়েছে? আমরা আইনি পদক্ষেপ করব বলে ভাবছি। রাজ্য খুব শীঘ্রই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে।‘
আরও পড়ুন দারুণ সুখবর! এক ধাক্কায় অনেকটাই দাম কমল বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের

প্রসঙ্গত, এর আগেও গত ৩১ মে কল্যাণী, বর্ধমান, যাদবপুর,কাজি নজরুল সহ রাজ্যের ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য নিয়োগ করেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তারপরই উপাচার্য হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন নবনিযুক্ত। অনেকে আবার যোগ দেবেন কি না তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। সব মিলিয়ে শিক্ষার সার্বিক ক্ষতি হবে বলেই মত জানিয়েছিলেন শিক্ষাবিদরা। আর এই নিয়োগের বিষয়টি নাকি সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। টুইটে তিনি বলেন, ‘এই নিয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি। বেআইনি ভাবে নবনিযুক্ত মাননীয় উপাচার্যদের সকলকে উচ্চশিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে সসম্মান অনুরোধ থাকবে যে, তাঁরা যেন এই নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করেন।’ এরপরই রাজ্যপাল যে ১৪ জন উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন, তাঁদের উপাচার্য হিসেবে পারিশ্রমিক ও ভাতা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর। কেননা রাজ্যের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা না করেই ওই উপাচার্যদের নিয়োগ করা হয়েছিল।

কার্যত সেকারণেই রাজ্যপাল নিযুক্ত উপাচার্যদের বেতন ও ভাতা বন্ধের নির্দেশ জানিয়ে সে নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছিল। এরপর উপাচার্য নিয়োগের বৈধতা তুলে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। সেসময় হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, রাজ্যপাল যে উপাচার্যদের নিয়োগ করেছিলেন তা বৈধ। রাজ্যপালের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন সনৎ কুমার ঘোষ। তাঁর বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট আইন না মেনে অর্থাৎ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই রাজ্যপাল উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগের যে সময়সীমা তা অগ্রাহ্য করেই রাজ্যপাল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্যের সঙ্গে পরমর্শ করার বিষয়টি আইনসভার অন্তর্ভুক্ত একটি আইন। সেই আইনকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। রাজ্য এই উপাচার্যদের বেতন দেয়। সে ক্ষেত্রে নিয়োগ যদি বেআইনি হয়, তাহলে সরকার টাকা দেবে কীভাবে? সেই প্রশ্ন তোলেন মামলাকারী।


More Stories
যোগা, নামাজ, রেডরোড ও “হরিদাস পাল”
অভিষেক আসতেই দুই-দলে খণ্ডযুদ্ধ, বিমানবন্দরে আতঙ্কে যাত্রীরা!
ধাক্কা তৃণমূলে, জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিক দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন