Home » শিক্ষা সেলের সভায় রাজ্যপালকে ‘সাদা হাতি’-র সঙ্গে তুলনা ব্রাত্য বসুর

শিক্ষা সেলের সভায় রাজ্যপালকে ‘সাদা হাতি’-র সঙ্গে তুলনা ব্রাত্য বসুর

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৪ সেপ্টেম্বরঃ  উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত তুঙ্গে। বিভিন্ন ইস্যুতে এর আগেও একাধিকবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের মতানৈক্য হয়েছে। এই আবহে রাজপাল সিভি আনন্দ বোসকে নাম না করে কখনও ‘ভ্যাম্পায়ার’, কখনও আবার ‘আলাউদ্দিন খিলজি’, আবার কখনও ‘মহম্মদ বিন তুঘলক’ বলে কটাক্ষ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এবার শিক্ষা সেলের সভায় আনন্দ বোসের পদকে ‘সাদা হাতি’র সঙ্গে তুলনা করলেন তিনি। সেইসঙ্গে আনন্দ বোসকে কবি বলেও কটাক্ষ করেন ব্রাত্য। শনিবার গান্ধি মূর্তির পাদদেশে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছিল তৃণমূল শিক্ষা সেল। সেই সভায় রাজ্যপালকে কটাক্ষ করে ব্রাত্য বসু বলেন, ‘ রাজভবনে কবি বসে আছেন। কিন্তু কবি তুমি কুমোরের নয়, তুমি কামারেরও নয়। তুমি রাজার। কবির প্যাশন থাকে। আবেগ থাকে। একটা সাদা হাতির মত পদ, যে পদ রাখার আদেও কোনও যৌক্তিকতা আছে কিনা, জানা নেই। ওরা সব কিছুর দখল নিতে চাইছে।’

আরও পড়ুন    মণিপুরে ২ মহিলাকে নিগ্রহের ঘটনায় কলকাতার রাজপথে ধর্নায় তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস

এদিকে সংঘাতের আবহেই কিছুদিন আগে ব্রাত্য বসুকে ‘জুনিয়র’ বলে আক্রমণ করেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি বলেছিলেন, ‘যা আলোচনা করার তা আমার সাংবিধানিক সহকর্মী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই করব। কোনও জুনিয়র অ্যাপয়েন্টির সঙ্গে নয়।’ প্রসঙ্গত, রাজ্য-রাজভবন সংঘাত নতুন কিছু নয়। কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি উড়িয়ে রাজ্যের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজভবনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়, ‘আচার্যের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপাচার্যই। তাঁর অধীনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মী উপাচার্যের নির্দেশই মেনে চলবেন, অন্য কারও নয়। সরকার তাঁদের নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য নয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি।’

এই নির্দেশিকার ফলে নতুন করে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত চরমে ওঠে। এর আগেও রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অস্থায়ী ১৪ জন উপাচার্য নিয়োগ করেছেন আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এরপরই রাজ্যপাল যে ১৪ জন উপাচার্যদের নিয়োগ করেছিলেন, তাঁদের বেতন ও ভাতা বন্ধের নির্দেশ জানিয়ে সে নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছিল। এরপর উপাচার্য নিয়োগের বৈধতা তুলে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। সেসময় হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, রাজ্যপাল যে উপাচার্যদের নিয়োগ করেছিলেন তা বৈধ।

About Post Author