Home » নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে মানিক-পুত্র সৌভিকের জামিন মামলায় বিস্ফোরক দাবি ইডি-র

নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে মানিক-পুত্র সৌভিকের জামিন মামলায় বিস্ফোরক দাবি ইডি-র

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ সেপ্টেম্বরঃ  নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে,ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত ৭ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রী শতরূপা ভট্টাচার্য। তারপর থেকেই নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে মানিক-পুত্র সৌভিক ভট্টাচার্যের জামিন মামলায় উঠে আসছে একের পর এক অভিযোগ। এবার সৌভিক ভট্টাচার্যর জামিন মামলায় আদালতে বিস্ফোরক দাবি করল ইডি। ইডির আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি জানান, নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে অভিযুক্ত মানিক ভট্টাচার্য এবং ‘মাস্টারমাইন্ড’ তাপস মণ্ডল করোনা অতিমারির সময় ঠিক করেছিলেন অনলাইন ক্লাস করানো হবে। সেইমত অল বেঙ্গল টিচার ট্রেনিং অ্যাচিভার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে বেসরকারি শিক্ষক সংগঠন তৈরি করা হয়েছিল। এরপর অনলাইন ক্লাসের নামে মাথা পিছু ৫০০ করে তোলা হত। করোনার সময় মূলত অনৈতিক ভাবে টাকা রোজগার করার জন্যই ওই ব্যবস্থা করা হয়েছিল।  

এই অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেই মানিক পুত্র সৌভিকের যোগ টানে ইডি। ওই সংগঠনের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কোনও যোগ আছে কি না? তা জানতে চেয়েই আদালতে শুক্রবার প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। যদিও এদিন মানিক-পুত্র সৌভিকের জামিনের আর্জি পিছিয়ে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার হবে বলেই জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত বছরের ১১ অক্টোবর মানিক ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। এরপরই তদন্তে নেমে মানিকের বিপুল সম্পত্তির হদিশ পান ইডি। এরপরই নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ায় মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রী শতরূপা ভট্টাচার্য এবং ছেলে শৌভিক ভট্টাচার্যের। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ব্যাঙ্কশাল আদালতে আত্মসমপর্ণও করেন মানিকের স্ত্রী ও পুত্র।

আরও পড়ুন    নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না ইডি, রক্ষাকবচ হাইকোর্টের

জানা গিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে ২০বার বিদেশ সফরে গিয়েছে মানিক ভট্টাচার্যের পরিবার। বিদেশ সফরের তালিকায় ফ্রান্স, নাইজেরিয়া, মালদ্বীপ, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনামের মতো একাধিক দেশ রয়েছে। প্রতিটি সফরে খরচ হয়েছে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। নিয়োগ দুর্নীতির টাকাতেই কি বিদেশ সফর? সেসব কিছু জানতেই তদন্ত শুরু করে ইডি-র আধিকারিকরা। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, শৌভিক ভট্টাচার্য বেশ কয়েকবার লন্ডন যাত্রা করেছেন। কিন্তু,২০১৭ সালের মে এবং জুলাই মাসে দু’বার লন্ডন যাত্রা করলেও সেই তথ্য সম্পূর্ণ গোপন করে গিয়েছেন তিনি। যা পরবর্তীতে ইডি-র তদন্তে উঠে আসে। অন্যদিকে, মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ আনা হয়েছিল ইডি-র তরফে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মানিক ভট্টাচার্যের সঙ্গেই জড়িত ছিলেন তাঁর স্ত্রী শতরূপা ভট্টাচার্য। নিয়োগ দুর্নীতির একাধিক তথ্য মানিকের স্ত্রীর কাছে রয়েছে।

About Post Author