স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৬ ডিসেম্বর: রামধনু দেশে অতীতে কখনও টেস্ট সিরিজ জেতেনি ভারত। অতীতকে পাল্টে দেওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন রোহিত শর্মারা। সেঞ্চুরিয়ান পার্কে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট অভিযান। তবে বক্সিং ডে টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষ হল নির্ধারিত সময়ের অনেকটা আগে। মাত্র ৫৯ ওভারেই খেলায় ইতি টানতে বাধ্য হন ম্যাচ রেফারি। যদিও বৃষ্টি হলে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে পারত ভারত। কারণ বৃষ্টির আগে সেঞ্চুরিয়ান পার্কে দাপট দেখিয়েছেন আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাডা। মূলত তাঁর দাপটে ২০৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বেশ ব্যাকফুটে রয়েছে টিম ইন্ডিয়া। ভারতের হয়ে একা লড়াই করছেন কে এল রাহুল। তাঁর সঙ্গে পিচে রয়েছেন সিরাজ।

সেঞ্চুরিয়ানে টসে জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। কাগিসো রাবাডা ও মার্কো জানসেনের সুইংয়ের সামনে বারবার সমস্যা পড়তে হয় ভারতের দুই ওপেনারকে। খেলা শুরুর আগে বৃষ্টি হওয়ায় অতিরিক্ত সুবিধেও পাচ্ছিলেন দুই প্রোটিয়া ফাস্ট বোলার। শুরুতেই ভারতীয় শিবিরকে ধাক্কা দেন সেই রাবাডা। মাত্র ৫ রানের মাথায় ফেরান রোহিত শর্মাকে। আর এক ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল শুরুটা খারাপ করেননি। তবে তিনিও খুব বেশিক্ষণ পিচে টিকতে পারেননি। ১৭ রানের মাথায় বার্গারের বলে আউট হন যশস্বী। তিন নম্বরে নেমে ব্যর্থ শুভমন গিলও। মাত্র ২ রান করে ফেরেন তিনি। তাঁকেও ফেরান দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সিরিজে অভিষেক হওয়া বার্গার।

আরও পড়ুন: সুপার কাপ খেলতে না চেয়ে ফেডারেশনকে চিঠি দিল মহামেডান স্পোর্টিং
২৪ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন বিরাট-শ্রেয়স জুটি। যদিও ইনিংসের শুরুতেই জীবন দান পান দুই ব্যাটার। পরপর কয়েকটি বাউন্ডারি পেয়ে কিছুটা চাপ কমে ভারতের। ধৈর্য্য নিয়ে ব্যাট করছিলেন দুজনেই। তবে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরেই প্রোটিয়াদের খেলায় ফেরান সেই রাবাডা। চার ওভারের ব্যবধানে দুই প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারকে ফেরান তিনি। ৩১ রান করে ফেরেন শ্রেয়স। বিরাট করেন ৩৮ রান। সাত নম্বরে নেমে ৮ রান করে ফেরেন রবিচন্দ্রন অশ্বিনও। ১২১ রানে ৬ উইকেট পড়ার পরে ভারতের ইনিংসকে নির্ভরতা দেন কে এল রাহুল ও শার্দূল ঠাকুর। সাবলীল ব্যাট করতে দেখা যায় রাহুলকে। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিচ্ছিলেন শার্দূল। বেশ কয়েকটি চার আসে সদ্য চেন্নাই সুপার কিংসে যোগ দেওয়া ক্রিকেটারের ব্যাট থেকে। তবে ফের একবার ভারতীয় শিবিরে ধাক্কা দেন রাবাডা। ২৪ রানে শার্দূলকে ফিরিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেটটি ঝুলিতে পোড়েন তিনি।

চা বিরতির পরে দলের যশপ্রীত বুমরাকে নিয়ে দলের রান এগিয়ে নিয়ে যান রাহুল। হাতে উইকেট না থাকায় আক্রমণাত্মক খেলতে শুরু করেন তিনি। বার্গারের বলে পর পর দু’বলে চার ও ছক্কা মেরে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন রাহুল। এরপর বুমরাও আউট হয়ে যান। ৫৯ ওভারের পরে বৃষ্টি নামে। আর খেলা শুরু করা যায়নি। প্রথম দিনের শেষ ৭০ রানে অপরাজিত রয়েছেন রাহুল। তার সঙ্গে লড়াই করছেন সিরাজ। এই লড়াই কতদূর এগোবে? উত্তর মিলবে বুধবার।


More Stories
চেন্নাইকে হারিয়ে প্লে-অফে হায়দ্রাবাদ
পাকিস্তান কি প্রতিশোধ নিতে পারবে?
অবশেষে মুম্বাই ছন্দে, প্রশ্ন সূর্যকে নিয়ে