সময় কলকাতা ডেস্ক,২৮ ডিসেম্বর : দিমিত্রিয়স ডায়ামনটাকোস। আন্তর্জাতিক স্তরে গ্রীস দলের হয়ে ৫ টি ম্যাচ খেলা ৩০ বছরের তারকা ফুটবলার কেরালা ব্লাস্টার্স দলের হয়ে আইএসএলে কাঁপিয়ে চলেছেন বিপক্ষের রক্ষণকে। বুধবার সন্ধ্যেয় তিনি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট দলের আতঙ্ক ও লজ্জার কারণ হয়ে রইলেন। তাঁর করা গোলে কেরালা ব্লাস্টার্স হারাল সবুজ মেরুনকে। ফলশ্রুতি,মোহনবাগান হারের হ্যাটট্রিক করল এবার আইএসএলে। কেরালা ও বাগানের সপ্তম সাক্ষাৎকারে কেরালার এই প্রথম মোহনবাগান বধ !
এএফসি কাপকে পাখির চোখ করা বাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দোকে এএফসিতে লজ্জা দিয়েছিল বাংলাদেশের বসুন্ধরা আর এদেশের ওড়িশা। আইএসএলে ওড়িশার কাছে খুব একটা লজ্জা না পেতে হলেও এবং কোনক্রমে শেষ মুহূর্তে ড্র করে সম্মান রক্ষা হলেও মোহনবাগানের লজ্জা ক্রমেই বেড়েছে মুম্বাই,গোয়া ম্যাচে হেরে । এই লজ্জা এবার সীমাহীন হয়েছে কেরালা ব্লাস্টার্সের কাছে পরাজয়ের পর। কারণটা সরলসোজা – এবার ৭০ কোটি টাকা দিয়ে টিম গড়েও টানা হারের হ্যাটট্রিকের মুখ দেখল মোহনবাগান। সৌজন্যে ডায়ামানটাকোসের বিশ্বমানের গোল। তিনি প্রথমার্ধেই মোহনবাগান রক্ষণে একাধিক প্লেয়ারকে পুতুল নাচ নাচিয়ে গোল করলেন, কেরালা রক্ষণ থেকে প্রাক্তন দলের রক্ষণের দুর্দশা দেখলেন প্রীতম কোটাল। কেরালা দলে আঘাত জনিত কারণে আদ্রিয়ান লুনা না থাকলেও খুব একটা অসুবিধা হচ্ছে না পেপরা বা ডায়ামানটাকোস থাকায়।
মুম্বাই জয়ের পরে এবার মোহনবাগানকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে ১২ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে পৌঁছে গেল কেরালা। এফসিগোয়া দ্বিতীয় স্থানে ২৩ পয়েন্ট পেয়ে তবে তারা কেরালার তুলনায় তিনটি ম্যাচ কম খেলেছে। অন্যদিকে এবছর সূচনা থেকে টানা পাঁচ ম্যাচে জয় দিয়ে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের জয়যাত্রা শুরু করা মোহনবাগান দৈত্যদের অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। নামতে নামতে তারা এখন পঞ্চম স্থানে এসে পৌঁছেছে। ১০ ম্যাচ খেলে তাদের পয়েন্ট মাত্র ১৯। তবে বিশাল কাইথ থাকায় মোহনবাগানের লজ্জা এদিন অনেকাংশেই কমেছে। বিশাল এদিন গোলপোস্টের তলায় বিশাল বৃক্ষের মত না হয়ে উঠলে মোহনবাগানের কপালে আরও দুর্ভোগ ছিল। একাধিক নিশ্চিত গোল ও পতন তিনি রোধ করেছেন।
উল্লেখ্য, কেরালার হাতে মোহনবাগান বধ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল ভঙ্গুর ডিফেন্স। বাস্তবেই এদিন মোহনবাগান ডিফেন্সকে মনে হয়েছে তাসের ঘরের মত। বাঙালি তনয় তথা প্রাক্তন বাগান ফুটবলার প্রীতম কোটাল সবকিছুই দেখলেন বিজয়ী কেরালার হয়ে। ২০২৩ সালে শেষ সাক্ষাতে কেরালাকে ২-১ গোলে হারানোর দিনে নায়ক ছিলেন আরেক প্রাক্তন ম্যাক হিউ। প্রীতম, ম্যাকহিউ, শ্লাভকোদের ঘরছাড়া করে বিশ্বকাপার এবং তারকাদের নিয়ে ঘর সাজিয়ে মোহনবাগান যে এবার কার্যত মাথাভারী টিম হয়ে উঠেছে তার প্রমাণ প্রতিদিন রাখছেন সাদিকু – কামিংসরা।।


More Stories
চেন্নাইকে হারিয়ে প্লে-অফে হায়দ্রাবাদ
পাকিস্তান কি প্রতিশোধ নিতে পারবে?
অবশেষে মুম্বাই ছন্দে, প্রশ্ন সূর্যকে নিয়ে