সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ এপ্রিলঃ সোমবারই এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা উচ্চ আদালত ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগের গোটা প্যানেলই বাতিল করে দিয়েছে। এদিন মোট ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের নিয়োগ বাতিল ঘোষণা করেছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ সাব্বির রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। নথি অনুযায়ী, চাকরিহারাদের মধ্যে মোট পাঁচ হাজার জনের বিরুদ্ধে বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এবার মুখ খুললেন SSC চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার। সাংবাদিক বৈঠক করে এদিন তিনি বলেন, এই মামলার শুনানি শুরু হয় ডিসেম্বর মাসে। ১৩ ডিসেম্বর অযোগ্যদের তালিকা নাম ও রোল নম্বর ধরে ধরে হলফনামা আকারে পেশ করা হয়েছিল। আদালত একটি পয়েন্ট সম্পর্কে সন্তুষ্ট হয়নি। আবারও হলফনামা দিতে বলে। ১৮ ডিসেম্বর আরেকটি হলফনামা দিই।
আরও পড়ুন গাইঘাটা হত্যাকান্ড : দাদা খুন, ভাই আটক
তাতে নবম দশমে ৭৭৫ জন সুপারশিপত্র রুল ১৭ প্রয়োগ করে প্রত্যাহার বা বাতিল করেছি, তার তালিকা দেওয়া হয়। প্রত্যেকেরই নিয়োগ আদালত বাতিল করে দিয়েছিল। গ্রুপ সি-র ক্ষেত্রে ১০ মার্চ, ২০২৩, গ্রুপ ডি ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখ আদালত চাকরি বাতিল করে। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি -র ক্ষেত্রে আমারে রুল ১৭-এর মতো সমগোত্রীয় রুল নেই বলে, আমরা সুপারিশপত্র প্রত্যাহার করতে পারেনি। সেটা জেনে আদালত ওঁদের চাকরি বাতিল করে। এর আগে, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে অনেকের চাকরি সরাসরি বাতিল হয়েছিল। তার ভিত্তিতে ২১ সালে ডিআইদের চিঠিও পাঠাই। ২২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৫০ জন গ্রুপ সি ও ৫৭৩ জন গ্রুপ ডি নিয়োগ বাতিল হয়। এটাই ৫ জানুয়ারির হলফনামায় পেশ করি। তিনটি হলফনামায় গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম, একাদশ দ্বাদশের দুটি বড় ইস্যু র্যাঙ্ক জাম্প ও OMR-এ গন্ডগোলের বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ করি।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ কলকাতা হাইকোর্টে এসএসসি মামলার রায় পড়তে শুরু করেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক। ২৮১ পাতার রায়ে মোট ৩৭০টি অনুচ্ছেদ ছিল। এসএসসি নিয়োগ সংক্রান্ত সব মামলা গ্রহণযোগ্য বলেই পর্যবেক্ষণ বিচারপতি বসাকের। ২০১৬ সালের বিতর্কিত গোটা প্যানেলই খারিজ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। তার ফলে ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের নিয়োগ বাতিল করা হয়। শুধুমাত্র সোমা দাস নামে এক চাকরিপ্রাপকের চাকরি থাকবে বলে জানিয়েছে হাই কোর্ট। কারণ, তিনি ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত। মানবিক কারণে তাঁর চাকরি বহাল রেখেছে আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এও জানিয়ে দেয় যে, অতিরিক্ত শূন্য পদ তৈরির মাধ্যমে যাদের চাকরি দেওয়া হয়েছিল, ৪ সপ্তাহের মধ্যে তাদের বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে। দিতে হবে ১২ শতাংশ হারে সুদও। আবার জেলাশাসক পরবর্তী ২ সপ্তাহের মধ্যে ওই টাকা আদালতে জমা দেবে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক এবং অশিক্ষক শিক্ষা কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মোট ৩৫০টি মামলা হয়েছিল। সেই সব মামলা একত্র করে সোমবার বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে। বিচারপতি এও জানিয়ে দেন, দুর্নীতির ব্যাপারে সিবিআই তাদের তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং শিক্ষা দফতরের যে সব অফিসাররা এই নিয়োগ কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, অর্থাৎ প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও যে অফিসাররা নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়েছিলেন, সিবিআই চাইলে তাঁদের হেফাজতে নিতে পারবে। এসএসসিকে আদালতের নির্দেশ, অবিলম্বে যে ওএমআর শিট বা উত্তরপত্র এসএসসির ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়নি, সেগুলি দ্রুত আপলোড করতে হবে। উত্তরপত্র যাতে সকলে দেখতে পান, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে। নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ওএমআর প্রস্তুতকারক সংস্থা নাইসার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। হাই কোর্টের মতে, মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেলের পরে সমস্ত নিয়োগই অবৈধ।
# SSCChairman
#SSCChairmanSiddharthMazumder
#Latestbengalinews
#এসএসসিনিয়োগদুর্নীতিমামলা


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা