Home » পেপের আশ্চর্য রেকর্ড ও পেপের সাফল্যের রহস্য

পেপের আশ্চর্য রেকর্ড ও পেপের সাফল্যের রহস্য

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ২৪ জুন : তিনি যখন ফুটবল খেলতে শুরু করেছিলেন তখন আজকের দিনের অনেক তারকা ফুটবলারের জন্মই হয়নি। তিনি আজও খেলে চলেছেন একই ছন্দে। ইউরো কাপের সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলারের  রেকর্ড করেছেন তিনি। পেপের আশ্চর্য রেকর্ড  গড়ার মূলরহস্য  কী? পেপেকে নিয়ে অনেক কথাই ফুটবল প্রেমীদের হয়তো অজানা।

এবারের ইউরো কাপে প্রথম ম্যাচে শেষ মুহুর্তের গোলে চেকিয়া দলকে হারিয়ে জয় পেয়েছিল পর্তুগাল। দ্বিতীয় ম্যাচে তুর্কিকে হারাতে অবশ্য বেগ পেতে হয় নি পর্তুগালকে। প্রথম ম্যাচে ২-১ গোলে জয়ের পরে দ্বিতীয় ম্যাচে জয় এসেছে ৩-০ গোলে। তারকা ফুটবলার রোনাল্ডো গোল না পেলেও অপর দুই তারকা ফুটবলার বার্নাডো সিলভা এবং ব্রুনো ফার্নান্ডেজ গোল পেয়েছেন।কিন্তু এই তারকাদের মধ্যে স্বমহিমায় উজ্জ্বল পর্তুগাল ডিফেন্সের স্তম্ভ পেপে। ইউরোতে রেকর্ড তিনি গড়ে ফেলেছেন। ফুটবল মাঠে পেপের নামে পরিচিত হলেও তার প্রকৃত নাম বেশ বড়। কেপলার লাভারেন ডি লিমা ফেরেরা। কী রেকর্ড গড়েছেন তিনি? পেপের আশ্চর্য রেকর্ড গড়ার প্রেক্ষাপট আগে উল্লেখ করা দরকার।

তারিখটা ছিল ১৮ জুন ২০২৪। চেকিয়া বা চেক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে ইউরো কাপের বর্ষিয়ান তম ফুটবলারের রেকর্ড গড়েন পেপে । ৪১ বছর ১১৩ দিন বয়সে ইউরোপের মাঠে নামতে দেখা যায়নি কাউকেই। হাঙ্গেরির গোলরক্ষক গ্যাবর কিরালির ৪০ বছর বয়সে ইউরো খেলার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন পেপে।বিগত ২৪ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফুটবল ময়দান কাঁপাচ্ছেন পেপে। ২০০৭ থেকে ১৭ বছর ধরে পর্তুগালের সেন্ট্রাল ডিফেন্সের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। একাধিক ইউরো, বিশ্বকাপ খেলা পেপে বর্তমানে খেলেন পর্তুগালের শীর্ষস্থানীয় পোরতো ক্লাবে। ছ ফুট দুই ইঞ্চি লম্বা পেপে পর্তুগালের হয়ে খেলেছেন ১৩৯টি ম্যাচ। ডিফেন্স সামলানোর পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে উঠে গিয়ে হেড করে গোল করার ক্ষমতা ও তার রয়েছে। দেশের হয়ে আটটি গোল করেছেন পেপে।তবে পেপের জন্ম পর্তুগালে নয়,তাঁর জন্ম ব্রাজিলে। সেখানেই তিনি বেড়ে উঠেছেন।তাঁর জুনিয়র ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয় ব্রাজিলের করিনথিয়ান্স আলাগোয়ানোতে।

১৮ বছর বয়সে ব্রাজিল ছেড়ে পর্তুগালে চলে যান তিনি। ছ বছর পর্তুগালের ক্লাব স্তরে খেলার পরে পর্তুগালের জাতীয় দলের জার্সি তাঁর গায়ে ওঠে। ২০০৬ সালে ব্রাজিলের কোচ দুঙ্গা তাঁকে ব্রাজিল দলের জন্য আহ্বান জানালেও সম্ভাব্য সুযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, পর্তুগালের নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন তিনি। পর্তুগালের হয়েই তিনি খেলবেন।

পরের বছরই পর্তুগালের জার্সি তার গায়ে উঠেছিল। ২০০৪ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত পোরতোতে খেললেও এরপর রিয়াল মাদ্রিদে চলে যান তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১১ বছর সুনামের সঙ্গে খেলেছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়েও ২২৯টি ম্যাচে ডিফেন্সকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ১৩ টি গোলও পেয়েছেন তিনি। ক্লাব এবং দেশের হয়ে তিনি প্রায় সব প্রতিযোগিতা জিতেছেন। একমাত্র বিশ্বকাপ জয় তাঁর অধরা থেকে গিয়েছে।

২০১৬ সালের ইউরো কাপে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছিল পর্তুগাল। ফাইনালে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয়েছিলেন পেপে। সেদিন ৩৩ বছরেও তার ডিফেন্স সংগঠন যেরকম মজবুত ছিল, আজও ৪১ বছর বয়সে একই ফর্ম ধরে রেখে তিনি বর্ষিয়ানতম খেলোয়াড় হয়েও বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্টার ব্যাক। সাধে কি তাঁকে কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দেখা পর্তুগালের জাতীয় কোচ রোবারতো মার্টিনেজ বলেছেন, “পেপের বয়স যে ৪১ বিশ্বাস করা মুশকিল। একটি ম্যাচের পরে ঠিক তার পরের ম্যাচের দিকে নজর থাকে পেপের। খেলার প্রতি ভালোবাসা আর জেনেটিক্স মিশে রয়েছে পেপের মধ্যে।” হয়তো তাঁর কোচের বিশ্লেষণের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে পেপের আশ্চর্য রেকর্ড  ও পেপের দীর্ঘ সফল ফুটবল জীবনের রসায়ন। হয়তো এভাবেই সমৃদ্ধ পেপে অবাক করে চলেছেন আর দিয়ে চলেছেন মুগ্ধতা।।

About Post Author