স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৫ জুলাইঃ ২০১৫ ও ২০১৬ পরপর দুই বছর কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারতে হয়েছিল আর্জেন্টিনা। দু’বারই তাদের প্রতিপক্ষ ছিল চিলি। শেষবার ফাইনাল হারের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আলবিদা জানিয়ে দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি । যদিও সমর্থকদের কথা চিন্তা করে তিনি ফিরে আসেন। ২০২১ সালে তাঁর নেতৃত্বেই ২৮ বছর পর কোপা আমেরিকা জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা। সেটাই ছিল মেসির দেশের হয়ে প্রথম ট্রফি। তারপর ২০২২ সালে বিশ্বকাপও জেতে মেসির দেশ। এবার আবারও তাঁর নেতৃত্বেই পরপর দুইবার কোপা জিতল লা আলবেসেলিস্তারা। সোমবার প্রতিযোগিতার ফাইনালে তারা ১-০ গোলে হারিয়ে দিল কলম্বিয়াকে।

মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘন্টা পর খেলা শুরু হয়। কারণ টিকিট নিয়ে বিশৃঙ্খলা। অনের আর্জেন্টিনার সমর্থক টিকিট না পেয়ে ব্যারিকেড ভেঙে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। তাদের সামাল দিতে নাজেহাল হতে হয় মাঠে উপস্থিত নিরাপত্তা কর্মীদের। অবশেষে তাদের প্রচেষ্টায় ম্যাচ শুরু হয়। যদিও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনও দলই গোলের দেখা পায়নি। দুটি দল বেশ কিছু গোলের সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে বড় ধাক্কা খায় বিশ্বজয়ীরা। ৬৪ মিনিটে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি। সাইড লাইনে বসে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কাঁদতেও দেখা যায় এলএমটেনকে। তখন প্রায় সকলেই ধরে নিয়েছিলেন বিশ্বজয়ীদের জয়ের রথ এবার আটকাবে। ৭৫ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেই গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ে খেলার ফয়সলা না হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও প্রথমার্ধে কোনও দলই গোলের দেখা পায়নি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে গোলে বল জড়িয়ে দেন লাউতারো মার্টিনেজ। ১১২ মিনিটে লো সেলসোর বাড়ানো পাস থেকে বক্সে ঢুকে বিপক্ষের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ইন্টার মিলানের তারকা। তারপর দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন মেসিকে। সেই গোল আর শোধ করতে পারেনি ক্লান্ত কলম্বিয়ার ফুটবলারেরা।
আগামী কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনা দলে দেখা যাবে না দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা মেসি ও অ্যাঞ্জেল দি মারিয়াকে। তাই জীবনের শেষ কোপাটা স্মরণীয় করে রাখলেন দুজনে। শেষ হল আর্জেন্টিনা ফুটবলে সোনালী সময়ের এক সুন্দর অধ্যায়ের।


More Stories
ইউনিটি কাপ থেকে শূন্য হাতে ফিরছে ভারত
লালহলুদের ইলিশ উৎসব ধূপগুড়িতে
আকিব নবীর হয়ে সরব বেঙ্গসরকার, তাঁর দাবি ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ করে দেওয়া হোক