স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৫ জুলাইঃ বার্লিনেও ‘ঘরে ফিরল না ফুটবল’। ইউরো কাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল স্পেন । খেলার ফল লুই দে লা ফুয়েন্তের দলের পক্ষে ২-১। এই নিয়ে চতুর্থ বারের জন্য ইউরোপ সেরা হয়ে নজির গড়ল লা রোজারা। অন্যদিকে আবারও স্বপ্নভঙ্গ হল ইংল্যান্ডের। গতবারে ফাইনাল পৌঁছেও ট্রফি জয়ের স্বাদ পায় নি থ্রি লায়ন্সরা। এবারও পেল না। আরও একবার ইউরো কাপ ইংল্যান্ডের কাছে অধরা মাধুরী হয়ে রয়ে গেল।

২০০৮ সালে শেষবারের জন্য ইউরোপ সেরা হয়েছিল স্পেন । ইউক্রেনের কিয়েভে ইতালিকে ৪-০ গোলে পর্যদুস্ত করেছিলেন জাভি, ইনিয়েস্তারা। তারপর থেকে আর কোনও বড় টুর্নামেন্ট জিততে পারেনি লা রোজা ব্রিগেড। সেই দলের অনেক তারকা রবিবার বার্লিনে উপস্থিত হয়েছিলেন। কারণ ইউরো চব্বিশের ফাইনালে তাঁদের দেশ মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ডের। গ্যালারিতে বসে নিজেদের দলের জয় উপভোগ করলেন জাবি, ইনিয়েস্তা, ডেভিড ভিয়ারা। সেই সঙ্গে নিজেদের ছেড়ে যাওয়া রাজপাটের যোগ্য উত্তরসূরি যে তাঁদের দেশ পেয়ে গিয়েছে, তাঁরও সাক্ষী থাকলেন।
ফাইনালে শুরু থেকে ইংল্যান্ডের উপর চাপ তৈরি করে স্পেন । বল নিজেদের পায়ে রেখে দুই প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠছিলেন উইলিয়ামস ও ইয়ামাল। কিন্তু ইংল্যান্ডের দুই অভিজ্ঞ সাইড ব্যাক কাইল ওয়াকার ও লুক শ সেই আক্রমণ দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন। প্রথম কয়েক মিনিটে ইংল্যান্ডের সামনে একটাই সংকল্প ছিল গোল হজম না করার। সেই কাজে সফল হল গ্যারেথ সাউথগেটের দল। প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দল বিক্ষিপ্ত গোলের সুযোগ তৈরি করলেও তার সদ্ব্যবহার করতে পারেনি। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য।
আরও পড়ুনঃ Copa America 2024 : কানাডাকে হারিয়ে কোপা আমেরিকায় তৃতীয় স্থানে শেষ করল উরুগুয়ে
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এগিয়ে যায় স্পেন। সেই ইয়ামাল, উইলিয়ামস জুটির সৌজন্যে। কার্ভাহাল বল ধরে পাস বাড়ান ইয়ামালকে। সেই বল ধরে অরক্ষিত উইলিয়ামসকে খুঁজে নেন তিনি। তারপর মাপা সেন্টারে বল পাঠিয়ে দেন সতীর্থের কাছে। বাঁ পায়ের শটে ইংল্যান্ড গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন উইলিয়ামস। এগিয়ে যায় স্পেন। গোল পেয়ে আক্রমণে ধার বাড়ায় লা ফুয়েন্তের ছেলেরা। ৫০ মিনিটে ড্যানি অলমোর শট অল্পের জন্য নিশানাচ্যুত হয়। ৫৫ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন আলভারো মোরাতা। ৬০ মিনিটের মাথায় দলের তারকা হ্যারি কেনকে তুলে নেন ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। ৬৪ মিনিটে বেলিংহামের শট অল্পের জন্য পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ৬৬ মিনিটে স্পেনকে প্রায় এগিয়ে দিয়েছিলেন ইয়ামাল। অলমোর থেকে বল পেয়ে সর্পিল গতিতে ঢুকে পড়েন বক্সে। তারপর দ্বিতীয় পোস্টে বল রাখেন। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে সেই বল বাঁচিয়ে দলের অবধারিত পতন রুখে দেন পিকফোর্ড। ৭০ মিনিটে কোবি মাইনুকে তুলে কোল পামারকে নামিয়ে দেন ইংল্যান্ড কোচ। মাঠে নামার তিন মিনিটের মধ্যে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। বেলিংহামের পাস থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে স্পেনের গোলরক্ষককে অবশেষে পরাস্ত করেন পামার।
আরও পড়ুনঃ UEFA Euro Cup 2024 : ইউরো ফাইনালে মহারণ, তরুণ ব্রিগেডেই আশার আলো দেখছে স্পেন ও ইংল্যান্ড
গোল পেয়ে কিছুটা উজ্জীবিত ফুটবল খেলছিল থ্রি লায়ন্সরা। ৮২ মিনিটে আবারও ইয়ামালকে গোল পাওয়া থেকে রুখে দেন ইংরেজ গোলরক্ষক। রক্ষণকে ধরে রেখে শেষ দশ মিনিট আক্রমণে উঠছিল দুই দল। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছে। তখনই আবারও গোল করে এগিয়ে যায় স্পেন। বাঁ প্রান্ত ধরে বল নিয়ে উঠে ক্রস করেন কুকুরেয়া। সেই বলে পা ছুঁইয়ে দেন পরিবর্ত হিসাবে নামা ওয়্যারজাবাল। পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে বল জড়িয়ে যায় জালে। শেষের দিকে অনেক চেষ্টা করেও সেই গোল আর শোধ করতে পারেনি ইংল্যান্ড। প্রথম দল হিসাবে চারবারের জন্য ইউরোপ সেরা হয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন। প্রতিযোগিতার সেরা ফুটবলারের খেতাব পান স্পেনের রড্রি। সর্বোচ্চ গোলদাতা হন ড্যানি অলমো। সেরা যুব ফুটবলার নির্বাচিত হন এই প্রতিযোগিতার অন্যতম আবিষ্কার ল্যামিন ইয়ামাল।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার