Home » Iran Attacks Israel: মধ্যপ্রাচ্যে কি বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা? ইজরায়েলে ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

Iran Attacks Israel: মধ্যপ্রাচ্যে কি বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা? ইজরায়েলে ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২ অক্টোবরঃ মধ্যপ্রাচ্যের বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশ জুড়ে শুধুই ক্ষেপণাস্ত্র। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে বাড়ছে উত্তাপ। ক্রমশ ঘনাচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ।

ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ অব্যাহত। মারা গিয়েছে দুই দেশের বহু সৈন্য থেকে সাধারণ নাগরিক। যুদ্ধ আবহে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্বের অর্থনীতি। এমত অবস্থায় যুদ্ধের কালো মেঘ ক্রমশ জমছে মধ্যপ্রাচ্যে। কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে কি আবার চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিশ্ব অর্থনীতি? হুতি,হেজবোল্লার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে ইজরায়েলের। এরই মাঝে ইরানের অন্তর্ভুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ালো। সোমবার এবং মঙ্গলবার ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে প্রায় ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ইরানের এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

হেজবোল্লার প্রধান হাসান নাসরাল্লার মৃত্যু হয় ইজরায়েলি সেনার হানায়। লেবাননের বেইরুটের গোপন ডেরায়  ১ টনের প্রায় ৮৫ টি বোমা নিক্ষেপ করে ইজরায়েল। গোপন বাঙ্কারেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হেজবোল্লার প্রধান হাসান নাসরাল্লা। চরম তৎপরতায় হেজবোল্লার দায়িত্ব নেন হাশেম সইফুদ্দিন। প্যালেস্টাইনের গাজা, সিরিয়া কার্যত ধ্বংস করার পর নেতানিয়াহুর বাহিনীর নজর পড়ে লেবাননের হেজবোল্লা জঙ্গি গোষ্ঠীর উপর। পাশাপাশি ইয়েমেনের জঙ্গিগোষ্ঠী হুতির উপরেও লাগাতার আক্রমণ শানায় নেতানিয়াহুর সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক মহলের মতে ৭ অক্টোবর হেজবোল্লা বাহিনী ইজরায়েলের ওপর যে ক্ষেপনাস্ত্র হানা চালিয়েছিল তারই প্রত্যুত্তরে ইজরায়েলের এই আক্রমণ। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে ইজরায়েলের এই আক্রমণকে বিশ্বের বহু দেশ সমর্থন করেছিল। গাজা, সিরিয়া কার্যতো ধ্বংস করার পরেও থেমে থাকেনি নেতানিয়াহুর সেনাবাহিনী। ইরানের বরিষ্ঠ নেতা আয়াতুল্লা খোইমেনীকে ইসরায়েলের আক্রমণের ভয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় নিরাপদে স্থানে। তখন থেকেই মনে করা হচ্ছিল ইসরায়েলের উপর আক্রমণ চালাতে পারে ইরান। আন্তর্জাতিক মহলের এই আশঙ্কাকে বাস্তবে পরিণত করল ইরান। সোম এবং মঙ্গলবার ইসরায়েলের উপর প্রায় ৪০০ টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। যদিও ইজরায়েল সরকারের মতে অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস হয়েছে ইজরায়েলের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে। তবু কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে ইসরায়েলের মাটিতে। হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ না হলেও আন্তর্জাতিক মহলের মতে ইজরায়েলে মৃতের সংখ্যা প্রায় শতাধিক।

আরও পড়ুনঃ Flood Relief: বন্যার ক্ষতিপূরণে রাজ্যের জন্য ৪৬৮ কোটি বরাদ্দ কেন্দ্রের, অনুদানেও বঞ্চনার অভিযোগ রাজ্যের

গত ২৪ ঘন্টায় ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্থল সেনার আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন হেজবোল্লা ও হুতির প্রায় ২০০ জন জঙ্গি। মৃত্যু হয়েছে কিছু সাধারণ নাগরিকেরও। ইরানের ইজরায়েলের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হানার পরে ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস-সহ কূটনৈতিকরা একটি বৈঠকের পরে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইজরায়েলের পাশে থাকার। প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন আগে আমেরিকা , ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমির শাহী একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের পরে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও পারস্পরিক সমঝোতার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিল। ফলে ইজরায়েলের পাশে আমেরিকার দাঁড়ানো স্বাভাবিক বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

অপরদিকে, চিরদিনই হেজবোল্লার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। আন্তর্জাতিক মহলের মতে ইরানের পাশে থাকবে না আরব আমিরশাহী। ইরানের এই আক্রমণের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু পরিষ্কার হুমকি দিয়েছেন যে, এর ফল ইরানকে ভুগতে হবে। ফলে ইরানের উপর পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারে ইজরায়েল এ আশঙ্কা  করছে আন্তর্জাতিক মহল। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হতে পারে যুদ্ধের দামামা। ইরান ইসরায়েলের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করার পর গাজার মাটিতে উচ্ছ্বাসের বন্যা বয়ে যায়। সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে উচ্ছ্বাস দেখাতে থাকে। অপরদিকে লেবাননের অনেকটাই ভিতরে প্রবেশ করেছে ইজরায়েলের সেনাবাহিনী। একাধিক জায়গায় উদ্ধার হয়েছে হেজবোল্লার গোপন সুরঙ্গ এবং বাঙ্কার। আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে কারণ যদি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয় সেক্ষেত্রে কোন দেশ কার পক্ষ নেবে এটাই এখন বড় প্রশ্ন। আমেরিকার মাটিতে এই মুহূর্তে রয়েছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শংকর। ভারতের হয়ে তিনি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন এই কঠিন সময় যদি কিছু বলার থাকে এবং কোনও ভাবে যদি কাজে লাগা যায় সেক্ষেত্রে ভারত সেই পদক্ষেপে নেবে। অর্থাৎ দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে যদি কোনও পদক্ষেপ নিতে হয়, সেই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এখন দেখার মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে জমে ওঠা যুদ্ধের এই কালো মেঘ আস্তে আস্তে বিলীন হবে নাকি আরও গভীরভাবে ঘনীভূত হবে।

About Post Author