সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ অক্টোবরঃ আরজি কর মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে সিলড বক্স থেকে বেরোল রক্তমাখা গ্লাভস! অভিযোগ কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সদের। ‘একাধিক গ্লাভসে রক্তের দাগ’, সংক্রমণের আশঙ্কা চিকিৎসকদের। তদন্তের নির্দেশ স্বাস্থ্য দফতরের।

আরজি কর মেডিক্যালে বর্জ্য দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন প্রাক্তন ডেপুটি সুপার। এবার আরজি কর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে এসেছে রক্তমাখা গ্লাভস! তা দিয়েই রোগী পরিষেবা দিতে হবে ডাক্তারদের। ওই হাসপাতালের এক ইন্টার্নের দাবি, চিকিৎসা করার সময় তিনি রক্তমাখা গ্লাভসটি দেখতে পান। তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে একজন এইচআইভি রোগীর রক্ত নেওয়ার জন্য গ্লাভস নেন। প্যাকেট থেকে বের করতে গিয়ে তিনি ভাবেন প্রথম গ্লাভসটা হয়তো কোনও কারণে নোংরা ছিল। সেই গ্লাভস ফেলে অন্যটা নিতে গিয়েও দেখেন একই অবস্থা। প্রায় প্রত্যেকটি গ্লাভসই নোংরা। নার্স জানান, সকালে ওই গ্লাভসের প্যাকেটটি খোলা হয়। কী ভাবে তা সম্ভব? প্রশ্ন তুলেছেন আরজি করের জুনিয়র ডাক্তারেরা। অভিযোগ, ওই গ্লাভস পরে রোগীদের চিকিৎসা করা হলে সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকে যাবে। জুনিয়র ডাক্তারদের এই অভিযোগের তদন্ত চান স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরকে তদন্তের নির্দেশ দেন তিনি। ওই রক্তমাখা গ্লাভসগুলি আলাদা করে সরিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। জুনিয়র ডাক্তারদের বক্তব্য, এর আগেও আরজি করে এই ধরনের অপরিষ্কার গ্লাভসের জোগান দেওয়া হত। সে সময়েও কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে লাভ হয়নি। মাঝে বেশ কিছু দিন নোংরা গ্লাভসের জোগান বন্ধ ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার আবার সেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরব আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিত্সকরা। তাঁরা বলছেন, ওই গ্লাভস পরে রোগীদের চিকিৎসা করা হলে সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকে যাবে।
ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য স্বাস্থ্যদফতর। স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম ওই গ্লাভসগুলিকে আলাদা করে সরিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, গ্লাভসের প্যাকেটটি আপাতত আলাদা সরিয়ে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের সুপারকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম জানিয়েছেন, সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে। আরজি করে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে বিচার এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একাধিক বদলের দাবি জানিয়ে গত দু’মাস ধরে আন্দোলন করছেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। পাঁচ দিন ধরে ধর্মতলায় আমরণ অনশনে বসেছেন সাত ডাক্তার। তাঁদের যে ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন চলছে, তার মধ্যে অন্যতম স্বাস্থ্য সচিবের অপসারণ। যে বিষয়ে সরকারের কোনও সাড়া এখনও মেলেনি। একে তো তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে আন্দোলন চলছে। আমরণ অনশনে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের একাংশ। তারই মাঝে এমন অভিযোগে স্বাভাবিকভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।


More Stories
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস
রোহিঙ্গা ঠেকানো লক্ষ্য বিজেপির, বললেন খাদ্যমন্ত্রী
পুলিশের জালে তৃণমূল নেত্রী, তোলা হল বারাসাত আদালতে