Home » মিলন সর্দার জেল থেকে ছাড়া পেয়েই নিজের প্রাক্তন দল, রাজ্য প্রশাসন এবং সিআইডির বিরুদ্ধে সরব

মিলন সর্দার জেল থেকে ছাড়া পেয়েই নিজের প্রাক্তন দল, রাজ্য প্রশাসন এবং সিআইডির বিরুদ্ধে সরব

পুরন্দর চক্রবর্তী, বারাসাত, সময় কলকাতা, ২১অক্টোবর :  তিনি বলছেন, বিরাট বড় এক ষড়যন্ত্রের শিকার তিনি। কারা ষড়যন্ত্রে যুক্ত – সরাসরি তাঁদের নাম না করেও জেল থেকে ছাড়া পেতেই সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূল দল, রাজ্য প্রশাসন এবং সিআইডির বিরুদ্ধে তোপ অপহরণের (কিডন্যাপিং-এর ) অভিযোগে অভিযুক্ত বারাসাতের কাউন্সিলর মিলন সর্দারের।

নজিরবিহীন ঘটনা। একমাস আগে যিনি তৃণমূল নেতা ছিলেন এবং এখনও অন্য দলে যোগ দেন নি তিনি জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেতেই সিআইডির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিলেন। ১১৮ বছর আগে অর্থাৎ ১৯০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি বা ওয়েস্টবেঙ্গল সিআইডি গঠিত হয়েছিল। স্বাধীনতার পর থেকে ৭৭ বছর ধরে সিআইডি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে তদন্তের কাজ করে চললেও এরকম কখনও হয় নি যে শাসক দলের টিকিটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ষড়যন্ত্রের কথা তুলে এভাবে সিআইডিকে তোপ দেগেছেন। তিনি শুধু সিআইডিকে তোপ দাগলেন না, তিনি রাজ্য সরকারকেও তোপ দাগলেন। তিনি এও বললেন, রাজ্য সরকার ও প্রশাসন দুষ্কৃতীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। রাজ্য জেনে শুনে মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী ব্যবসায়ীকে রাজ্যে আশ্রয় দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে যে অনেকেই যুক্ত তাও তিনি জানালেন। তৃণমূলের কেউ যে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে সামিল থাকতে পারেন সে ইঙ্গিতও দিলেন । তৃণমূলের বড় মাপের নেতার বিরুদ্ধে মন্তব্য করতেও ছাড়লেন না। এত রকম তোপ একাই যিনি সোমবার দাগলেন – তিনি আর কেউ নন, গত এক মাস ধরে বহুল চর্চিত বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ও বারাসাত পুরসভার কাউন্সিলর মিলন সর্দার। ত্রিপুরার এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগে একমাস জেল খেটে জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরেই নতুন করে চর্চায় তৃণমূল দল থেকে বহিষ্কৃত ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিলন সর্দার।

সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ তারিখ গ্রেফতার হয়ে যান মিলন সর্দার। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ত্রিপুরার এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের। মিলন সর্দার একদিন আগে জামিনে ছাড়া পান। ছাড়া পেয়েই সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি সরব নিজের দল, রাজ্য প্রশাসন এবং সিআইডির বিরুদ্ধে।

মিলন সরদার জানিয়েছেন, ত্রিপুরার যে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করার অভিযোগ তাঁর ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে তিনি ত্রিপুরার মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল। মিলন সরদারের প্রশ্ন, রাজ্য এই মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনালকে গ্রেফতার করে নি?

মিলন সর্দারের দাবি, এই ব্যবসায়ীকে তিনি চেনেন না, তাঁর নাম এই অভিযোগে কারণ ও প্রমাণ ছাড়াই যুক্ত করা হয়েছে। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।

সিআইডির বিরুদ্ধে মিলন সর্দারের প্রশ্ন,তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ কোথায়? আদালতে ১কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা  তিনবারে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে কিন্তু সেই অভিযোগ ব্যবসায়ী আগের বারগুলিতে করেন নি কেন? অথচ কার কথায় কর্ণপাত করে সিআইডি তাঁকে গ্রেফতার করল? তিনি  কারণ ছাড়া গ্রেফতার, তাঁর সম্মানহানি এবং নির্যাতনের জন্য সিআইডির বিরুদ্ধে  আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের বারবার প্রশ্নের উত্তরে প্রাক্তন দলের  বিরুদ্ধে সরাসরি ষড়যন্ত্রে থাকার কথা উল্লেখ না করলেও তৃণমূলের নেতাদের যুক্ত থাকার অভিযোগ নস্যাৎ ও করেন নি। উল্টে বলেছেন, দল তার কাছে বিষয়টি জানতে না চেয়ে তাঁকে বহিষ্কার করে ঠিক করেনি।

বারাসাত পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও পরোক্ষে মন্তব্য করেছেন মিলন সর্দার। কেউ দুর্দিনে মিলন সর্দারের সঙ্গে থাকবেন কিনা তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়, বলেই মন্তব্য তাঁর। সবমিলিয়ে, জামিনে ছাড়া পেয়ে তাঁর তোপের মুখে তাঁর প্রাক্তন দল, প্রাক্তন সহকর্মী, রাজ্য প্রশাসন ও সিআইডি।।

About Post Author