Home » তিহার জেল এখন অতীত, ফের স্বমহিমায় অনুব্রত মণ্ডল

তিহার জেল এখন অতীত, ফের স্বমহিমায় অনুব্রত মণ্ডল

সময় কলকাতা ডেস্ক:- “আমি মঙ্গলকোটের অভিভাবক যেমন ছিলাম, তেমনই থাকব।” মঙ্গলকোটে এসে এই ভাষাতেই কথা বললেন কেষ্ট মন্ডল। এক কালে এই মঙ্গলকোট এলাকার সাংগঠনিক দায়িত্ব দাপটের সঙ্গে সামলেছিলেন কেষ্ট মন্ডল। গরুপাচার মামলায় জেলে যাওয়ার পর কেটে গিয়েছে প্রায় দুই বছর। জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর এই প্রথমবার মঙ্গলকোটের মাটিতে পা রাখলেন বীরভূমের স্বঘোষিত ‘রাজা অনুব্রত মণ্ডল।

উল্লেখ্য, বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম ও কেতুগ্রাম বিধানসভা এলাকা। এই তিন বিধানসভা এলাকার দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলে এসেছিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু গরুপাচার মামলায় তিনি জেলে যাওয়ার পর বিশেষ করে মঙ্গলকোট ও আউশগ্রাম বিধানসভা এলাকার সাংগঠনিক কাজকর্ম দেখাশোনার দায়িত্ব পূর্ব বর্ধমান জেলায় তৃণমূল নেতৃত্বকে দেয় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে অনুব্রতকে এযাবৎ আউশগ্রাম, কেতুগ্রাম ও মঙ্গলকোট এলাকায় দেখা যায়নি। প্রায় দুবছর পর এই এলাকায় দেখা গেল তাঁকে। হাসিখুশি মেজাজেই দেখা যায় তাঁকে।

দলীয় কর্মীদের আশ্বাস দিয়ে অনুব্রতকে বলতে দেখা যায়, “কোনও চিন্তা কোরো না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে আছেন। তোমরাও নেত্রীর পাশে এইভাবেই থেকো। যদিও পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “দল বলেছে পূর্ব বর্ধমানের মধ্যে ওই তিন বিধানসভা এলাকার সাংগঠনিক কার্যকলাপ জেলার মধ্যেই থাকবে। এখনও পর্যন্ত সেটাই আছে। এর বেশি আমি কিছু বলতে পারব না।”মঙ্গলবার মঙ্গলকোটের সতীপীঠ ক্ষীরগ্রামের দেবী যোগাদ্যা মন্দিরে পুজো দিতে আসেন কেষ্ট। এদিন মঙ্গলকোটে এসে কেষ্ট দাবি করেন, “এই এলাকায় আগে যেভাবে দলের কর্মীদের অভিভাবক ছিলাম। তেমনই থাকব।” তাহলে এবার থেকে মঙ্গলকোটের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আগের মতো আপনাকে দেখা যাবে? জবাবে তিনি জানান, “একশোবার দেখা যাবে।

এদিন অনুব্রতের সঙ্গে ছিল জেল খাটা মেয়ে সুকন্যা। সুকন্যার হাতে ছিল তাঁর মায়ের ছবি। প্রথমেই দেবীর মন্দিরে পুজো দেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেও আলাদা করে দক্ষিনা দিয়ে পুজো দেন বাবা-মেয়ে।অনুব্রত মন্দির চত্বরে কিছুক্ষণ ঘোরেন। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরি। এদিন অনুব্রত আসছেন শুনে মঙ্গলকোট ও কাটোয়া এলাকা থেকে অনেক কর্মী ক্ষীরগ্রামে চলে আসেন। প্রচুর লোকজনের জমায়েত হয়েছিল।

About Post Author