সময় কলকাতা ডেস্ক:- রাজ্য বাজেটের আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারী মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে যে, তাঁদের মহার্ঘ ভাতার ভবিষ্যৎ কী? এবার প্রশ্ন হল, এবারের রাজ্য বাজেটে কি মহার্ঘ্য ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা হবে? অঙ্ক কষতে ব্যস্ত কর্মচারীরা।
রাজ্য বাজেটে মহার্ঘ্য ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা হবে?
সরকারি কর্মচারীদের ডিএ সংক্রান্ত বাসনার কথা অজানা নয় মুখ্যমন্ত্রীর। তাই বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে আপাতত ডিএ নিয়ে অঙ্ক কষতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন অর্থ দফতরের শীর্ষ আধিকারিকেরা। সম্প্রতি কেন্দ্র অষ্টম পে কমিশন ঘোষণা করার পরে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও মহার্ঘ ভাতার মধ্যে পার্থক্য উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধির পথে। তাতেই ডিএ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলনরত রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির ক্ষোভ খানিকটা বেড়েছে।
ভোটের কাজে সরকারি কর্মচারীদের বড় ভূমিকা থাকে। তাই রাজ্য বাজেটে তাঁদের জন্য রাজ্য সরকারকে অতিরিক্ত কিছু ভাবতে হবে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। বাজেট পেশ ১২ ফেব্রুয়ারি। গত বছর বাজেটে ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। সেদিক থেকে মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁর তৃতীয় দফায় এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। যে কারণে রাজ্য প্রশাসনের একাংশের ধারণা, এবারের বাজেটে ডিএ নিয়ে বড় চমক থাকতে পারে।
কেন্দ্র-রাজ্য মহার্ঘ ভাতার তফাৎ
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারিরা ৫৩ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পান। অর্থাৎ কেন্দ্র-রাজ্য মহার্ঘ ভাতার তফাৎ রয়েছে ৩৯ শতাংশ। তারপর আবাহ নরেন্দ্র মোদি সরকার অষ্টম পে কমিশন অনুমোদন করেছে। যা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা। তাই অষ্টম পে কমিশন বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের বেতন কাঠামোর মধ্যে বিস্তর ফারাক তৈরি হয়ে যেতে পারে। কারণ বাংলায় সপ্তম পে কমিশন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এসবের মাঝেই উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ডিএ নিয়ে ইতিমধ্যে মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। অন্যদিকে ২০২৩ সালেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, কেন্দ্রের হারে মহার্ঘ ভাতা কোনওভাবেই দেবে না রাজ্য সরকার। কারণ রাজ্যের সেই আর্থিক সঙ্গতি নেই।লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ইতিমধ্যেই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়েছে রাজ্য। একইভাবে রাজ্য আবাস প্রকল্পে ১২ লক্ষ পরিবারকে গত ডিসেম্বরেই বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তি দিয়ে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এও জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে আরও ১৬ লক্ষ প্রান্তিক পরিবারকে বাড়ি বানাতে টাকা দেবে তাঁর সরকার।
স্বভাবতই, রাজ্য সরকারি কর্মচারী মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে যে, তাঁদের মহার্ঘ ভাতার ভবিষ্যৎ কী? অনেকেরই মতে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে সরকারি কর্মচারীদের দাবিকে রাজ্য একেবারে গুরুত্ব দেবে না, এমনটা নয়। এর আগে ২০২৩ সালে ২১ ডিসেম্বর পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্ক থেকে ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের সরকারি কর্মীরা বর্তমানে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অধীনে ১৪ শতাংশ হরে ডিএ পান। এবার বড়দিনে সেই ঘোষণা না হওয়ায় বাজেটে ডিএ ঘোষণার প্রবল সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। কত শতাংশ ডিএ ঘোষণা করা হবে বা আদৌ হবে কি না তার সঠিক কোনও ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে এই বাজেটে ডিএ নিয়ে কিছু না কিছু ঘোষণা করবেনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনই আশা করা যাচ্ছে।


More Stories
পারিবারিক ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে খু*ন করে আত্ম*ঘাতী স্বামী
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
শোভনদেবের আপ্ত-সহায়কের রিসর্ট সিল করল প্রশাসন