সময় কলকাতা ডেস্ক:- অগ্নিকাণ্ডের জেরে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ নারকেলডাঙায়। প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে রবিবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী বিক্ষোভে শামিল। পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান মেয়র ফিরহাদ হাকিম। রাজনীতি ভুলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। মেয়র এলাকা ছাড়তেই দুপুরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় কাউন্সিলর শচীন সিং অনুগামীদের নিয়ে পৌঁছে যান একেবারে নারকেলডাঙা থানায়। সেখানেই ধর্নায় বসে তিনি। তাঁকে দেখে এলাকার বিরোধী গোষ্ঠী আবার পিছু ধাওয়া করে থানার সামনে পৌঁছয়। কাউন্সিলর তাঁদের দিকে আঙুল তুলে অভিযোগ করেন, এরা কুখ্যাত সমাজবিরোধী পাপ্পু খানের দলবল, তাঁকে খুনের ষড়যন্ত্র করছে। এনিয়ে পুলিশের সামনেই দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়।
ছাইয়ের গাদায় শেষ সম্বলের খোঁজ
এদিকে কেউ হারিয়েছেন গয়নাগাটি। কারও পুড়ে ছাই মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড। ঘরে থাকা খাবারদাবার, পোশাক-আশাকও পুড়ে ছাই। কার্যত জতুগৃহে পরিণত হয়েছে নারকেলডাঙা। ছাইয়ের গাদায় শেষ সম্বলের খোঁজ করছেন নিঃস্বরা। কোথায় থাকবেন, কী খাবেন – সেই ভাবনায় হাহাকার ক্ষতিগ্রস্তদের।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে
গোটা রাত আকাশের নিচেই কাটে ক্ষতিগ্রস্তদের। বাড়িতে থাকা প্রয়োজনীয় সামগ্রী আগুনের গ্রাস থেকে বাঁচাতে পারেননি তাঁরা। চোখের জল মুছতে মুছতে শুধু পুড়ে যেতে দেখেন সব কিছু। রবিবার সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আলো ফুটতেই ছাইয়ের মাঝে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। ছাইয়ের স্তূপ সরিয়ে কিছু কিছু জিনিস পেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু তা যে অতি সামান্য। প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় যেন নিঃস্ব তাঁরা। চোখের জল বাঁধ মানছে না কারও। সরকারি সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। রবিবার দুপুরে মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘটনাস্থলে যান। সরকারি সাহায্যের বিষয়ে অবশ্য কিছু জানাননি তিনি।
ঘড়ির কাঁটায় দশটা হবে। কেউ খাওয়াদাওয়া করছিলেন। কেউবা সবেমাত্র ঘুমোতে গিয়েছেন। আবার কেউ পরিজন বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়। আচমকাই ঝুপড়ি লাগোয়া একটি গুদাম থেকে কালো ধোঁয়া বেরতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। হইচই পড়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশের ঝুপড়িকে গ্রাস করে। দমকলের ১৬টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু আগুন নেভানোর আগেই সব শেষ।
উল্লেখ্য, বসতিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। পুড়ে ছাই অন্তত ৪০টি ঝুপড়ি। সর্বস্ব হারিয়েছে আরও বহু পরিবার। দমকলের চেষ্টায় আগুন নিভে গেলেও রবিবার সকাল থেকে এনিয়ে এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত। প্রশাসনের গাফিলতিকে দুষে সর্বহারা বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, বেআইনি গুদাম থেকে আগুন লেগেছে। রবিবার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এলাকায় গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। জানান, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে তাঁদের বাসস্থান পুনর্নির্মাণ করে দেবেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।


More Stories
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন বাইক আরোহী