Home » ট্রাম্পের চাপে কি নত হল নয়াদিল্লি? ,মার্কিন প্রেসিডেন্ট তো দাবি করছেন তেমনই !

ট্রাম্পের চাপে কি নত হল নয়াদিল্লি? ,মার্কিন প্রেসিডেন্ট তো দাবি করছেন তেমনই !

ট্রাম্পের চাপে কি নত হল নয়াদিল্লি? ,মার্কিন প্রেসিডেন্ট তো দাবি করছেন তেমনই !

সময় কলকাতা ডেস্ক :- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চড়া শুল্কনীতির চাপে কি নত হল নয়া দিল্লি ? ট্রাম্প দাবি করছেন তেমনই। যদি তাই হয়, তাহলে শুল্ক কমানোর ফলে ঘরোয়া বাজারে তার আঘাত কী পড়তে পারে তা নিয়েও উৎকন্ঠা তৈরি হয়েছে। জারি চর্চা। দুদিন আগেই মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চিন ও কানাডা-র বিরুদ্ধে মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশ বছরের পর বছর আমেরিকার বিরুদ্ধে শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে। এবার আমেরিকার পালা।তা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে চর্চা তুঙ্গে। তার মধ্যেই শুক্রবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত তাদের শুল্ক অনেক কমিয়ে দিতে রাজি হয়েছে। ভারত আমেরিকার উপর বিপুল শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে। এত চড়া শুল্ক হার যে ওখানে কিছুই বিক্রি করাই যায় না। ভারতে আমেরিকার ব্যবসা খুবই কম। এটা প্রায় নিষিদ্ধ করার মতোই ব্যাপার। তবে এটা নিয়ে হইচইয়ের পর এখন ভারত শুল্ক অনেকটাই কমাতে রাজি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দাবি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার দাবি করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পরম বন্ধু। সেই বন্ধু সম্পর্ক এতটাই নিবিড় যে একসময় আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের নামে স্লোগান তুলতেও কুন্ঠাবোধ করেননি তিনি। ট্রাম্প ঠিক এমন সন্ধিক্ষণে এই মন্তব্য করেছেন যখন, নয়াদিল্লি আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ট্রেড বেরিয়ার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ওয়াশিংটনের চাপে আপসে রাজি নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র মার্কিন সফরের সময়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যৌথ ঘোষণা হয়েছিল। সেই লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল মার্কিন সফরে রয়েছেন। দুই দেশ পারস্পরিক স্বার্থ বজায় রেখে বাণিজ্য সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আলোচনা চালাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি

এদিকে, শুক্রবার ওভাল অফিসে বসে সেই ট্রাম্পই জানান, শুল্ক কমানোর প্রশ্নে অনেকটাই নত করা গিয়েছে ভারতকে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবি নিয়ে এ দেশের ঘরোয়া রাজনীতি ও অর্থনীতিতে উথালপাথাল শুরু হতে পারে বলে অনেকে এরই মধ্যে আন্দাজ করতে শুরু করেছেন। ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে দুই দেশ ২০২৫ সালের মধ্যে একটি বৃহৎ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে একমত হন। পাশাপাশি, ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ভারতের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে বুরবোঁ হুইস্কি, ওয়াইন এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল-এর শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অনেকের মতে ট্রাম্পকে খুশি করার একটি কৌশল।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন চায় ভারত আরও বেশি পরিমাণে মার্কিন তেল, গ্যাস ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করুক, যাতে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব হয়। ২০২৩ সালে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৯০ বিলিয়ন ডলার, যা ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এবার শুল্ক কমানোর ফলে ঘরোয়া বাজারে তার আঘাত কী পড়তে পারে তা নিয়েও উৎকন্ঠা তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক চাপেও পড়তে হতে পারে নয়াদিল্লিকে।

About Post Author