সময় কলকাতা ডেস্ক:- বুধবার দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের দ্বার উন্মোচন করেই বৃহস্পতিবার বড়বাজারে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেছুয়া বাজারে দাঁড়িয়ে হোটেলের নানা বেনিয়মের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তখনই পার্কস্ট্রিটের ম্যাগমা হাউজের প্রসঙ্গ টানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই পার্ক স্ট্রিটে সারপ্রাইজ ভিজিটে গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি দেখে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গাদাগাদি করে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার দেখিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের কথা বলেন তিনি। সেই মতোই দেরি না করে বৈঠকে বসেন নগরপাল মনোজ ভার্মা, মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই সারপ্রাইজ ভিজিটের পর রাতারাতি পার্কস্ট্রিটের ম্যাগমা হাউজের ভাঙার কাজ শুরু হল।
কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং আইনের ৪০০(৮) ধারায় ওই বিল্ডিং আগেই বেআইনি নির্মাণ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে নগরপাল মনোজ ভার্মা, মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর বৈঠকে ঠিক হয় শুধু ম্যাগমা হাউজই নয়, শহরের বিভিন্ন ছাদের উপরে তৈরি হওয়া সব রেস্তরাঁ বন্ধ করা হবে। সেই নিয়ে শুক্রবারই নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে কলকাতা পুরসভার তরফে। এক এক করে নোটিস দেওয়া হচ্ছে রেস্তরাঁগুলির মালিকদের। এরপরও তা বন্ধ না হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, স্পষ্ট করে এটাও বলে দেওয়া হয়েছে যে রেস্তরাঁর জন্য ছাদ বিক্রি করা যাবে না।
কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং আইনের ৪০০(৮) ধারায় গত বৃহস্পতিবারই ম্যাগমা বিল্ডিং ভাঙার নির্দেশিকা জারি হয়ে গিয়েছিল। তারপরেই তা ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। শহরে একের পর এক একাধিক হোটেল, রেস্তরাঁয় আগুন লাগা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে বিরোধী মহল থেকে। বড়বাজারের এক হোটেলে আগুন লাগার পর সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে সারপ্রাইজ ভিজিটে পার্ক স্ট্রিটের ম্যাগমা হাউসে যান মমতা। অব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তারপরই কলকাতা পুরসভা আপাতত সব রুফটপ রেস্তরাঁ বন্ধের কথা ঘোষণা করে। জানা গিয়েছে, প্রথমে রেস্তরাঁর মালিকদের তা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার রাত থেকেই অভিযানে নেমেছে পুরসভা।


More Stories
অহংকার মমতার পতনের কারণ বললেন জগন্নাথ দয়িতাপতি
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ