Home » ১০০ দিনের কাজের মতো জওয়ান নিয়োগ করবে পাকিস্তান?

১০০ দিনের কাজের মতো জওয়ান নিয়োগ করবে পাকিস্তান?

সময় কলকাতা ডেস্ক:-  ‘দিনের দিন টাকা মেটাতে হবে…’ দিনমজুরের মতো সেনা নিয়োগ পাকিস্তানে। যুদ্ধ শুরু হলে ৪ দিন লড়াইয়ের মতো অস্ত্রশস্ত্র নেই! পাকিস্তানের অবস্থা দেখে এমনই মন্তব্য করছে একাংশ। রবিবারই ফাঁস হয়েছিল পাকিস্তান সেনা প্রধানকে পাঠানো একটি গোপন চিঠি। যেখানে সেনার হাত খরচ থেকে খাদ্য, এমনকী, অস্ত্র ভাণ্ডারেও ঘাটতি রয়েছে বলে সেনা প্রধানকে সেই চিঠিতে জানিয়েছিলেন এক সেনাকর্তা। বেলা বাড়তেই ফাঁস হয় আরও এক চিঠি। কিছুদিন আগেই পরপর ইস্তফা দিয়েছিল পাকিস্তানের ১২০০ রেঞ্জার্স। যার জেরে দিশেহারা দশা সেদেশের সেনাবাহিনীর অন্দরে। সেনার এই ঘাটতি মেটাতেই লেফেটেন্ট জেনারেল ওমর বোখারিকে নতুন নিয়োগের নির্দেশে একটি চিঠি পাঠান ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস কাশিফ আবদুল্লাহ। তবে এই নিয়োগ কিন্তু স্বাভাবিকের থেকে একটু আলাদা।

সেই চিঠিতে কাশিফ আবদুল্লাহ লেখেন, নতুন নিয়োগে আনা যুবকদের দিন প্রতি একটা হাত খরচ দিতে হবে। প্রতিদিনের টাকা প্রতিদিন মিটিয়ে দিলে জওয়ানরাও উদ্যমী হবেন। একে জওয়ান পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কাজ করতে চাইছেন না। তাই দ্রুত এলাকার যুবকদের সেনার কাজে ঢুকিয়ে দেওয়া হোক। টাকা নিয়ে ভাবতে হবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে এলাকার আদিবাসী যুবকদের যদি নিয়োগ না করা হয়, তা হলে যুদ্ধ বেঁধে গেলে সামাল দিতে পারা যাবে না।

আদিবাসী নিয়োগেই কেন এত জোর?

ভারতীয় সীমান্তের পাখতুনখাওয়া সহ পার্বত্য অংশের সীমান্তের দায়িত্বে থাকা একাধিক ফ্রন্টিয়ার থেকে একাধিক সেনা জওয়ান ইস্তফা দিয়েছে। সেই কারণেই এবার ওই স্থানীয় অঞ্চল থেকে লোক টানতে চাইছে তারা। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এই নিয়োগ আসলে চুক্তিভিত্তিক। কোনও স্থায়ীপত্র পাওয়া যাবে না। একেবারে মুজাহিদীন নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই তাদের নিয়োগ হবে।

এদিকে, এই খবর প্রকাশ্যে আসার মাঝেই আরেক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই চর্চা শুরু হয়েছিল। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরু হলে চারদিন লড়াই করার মতো অস্ত্রশস্ত্র নেই পাকিস্তানের হাতে। পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলা ও ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা যখন প্রবল আকার নিয়েছে, ঠিক সেই সময়েই প্রকাশ্যে এসেছে এই রিপোর্ট। তবে অস্ত্রে না পারলেও মুখে লড়াই চালিয়ে যেতে কোনও খামতি রাখছে না পাকিস্তানের মন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিকরা।

একাধিক সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে যুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানের কাছে যে পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে তাতে বড়জোর ৪দিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। তারপরই ল্যাজেগোবরে দশা হবে পড়শি দেশের। সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহের কারণে বিশেষ করে ১৫৫ মিমি আর্টিলারি শেল রপ্তানির কারণে দেশে অস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এছাড়া এম ১০৯ হাউইটজার এবং বিএম-২১ রকেট সিস্টেমের গোলাবারুদের মজুদও অত্যন্ত কম। পাক সেনার কাছে বর্তমানে যে পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে তাতে মাত্র ৯৬ ঘণ্টা যুদ্ধ চালানো সম্ভব।

রিপোর্ট বলছে, দেশের প্রধান অস্ত্র উৎপাদনকারী সংস্থা পাকিস্তান অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি তাদের সীমিত উৎপাদন ক্ষমতার কারণে গোলা বারুদের চাহিদা পূরণে সক্ষম নয়। পরিস্থিতি যে অত্যন্ত খারাপ, যুদ্ধ বাধলে তার ফল ভালো হবে না বলে আগেই সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, বাড়তে থাকা ঋণ, জ্বালানি ঘাটতির মতো বহু সমস্যার জেরে একটা সময়ে সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ অনুশীলন স্থগিত করতেও তারা বাধ্য হয় বলে সূত্রের খবর।

বিপুল সমস্যায় জর্জরিত পাকিস্তান যুদ্ধক্ষেত্রে যে মুখ থুবড়ে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই অবস্থায় পাকিস্তানের তরফে লাগাতার পরমাণু হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে ভারতকে। শুধু তাই নয়, ভারত যাতে তাদের উপর আক্রমণ না চালায় তার জন্য আমেরিকা-সহ অন্যান্য দেশের কাছে মধ্যস্থতার দাবি জানিয়ে চলেছে শাহবাজ সরকার। ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এরপরই পাকিস্তানকে কড়া জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে ভারত। স্থগিত করা হয়েছে সিন্ধু জলচুক্তি। পাকিস্তানিদের ‘সার্ক’ ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরার ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ভারতের আকাশসীমায় পাকিস্তানের বিমান উড়তে পারবে না ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের থেকে সমস্ত রকমের পণ্য আমদানি বন্ধ করেছে ভারত।

বাণিজ্য মন্ত্রক থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পাকিস্তানে উৎপন্ন কোনও পণ্য ঘুরপথে বা সরাসরি ভারতে আসতে পারবে না। এসবের পাশাপাশি, পাকিস্তানি শিল্পীদেরও নিষিদ্ধ করা হয়েছে ভারতে। ব্লক করা হয়েছে তাঁদের স্যোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট। পহেলগাঁও হামলার পর ভুয়ো প্রচারের অভিযোগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফের এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছিল ভারতে। প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির এক্স হ্যান্ডেল ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এসবের মধ্যেই ভারতকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েই চলেছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের হুঁশিয়ারির মাঝেই ১০০ দিনের কাজের মতো সেনা নিয়োগের চিঠি এবং পাকিস্তানের অস্ত্র সম্ভার নিয়ে প্রকাশ্যে আসা রিপোর্ট আসলে একটি প্রবাদবাক্যই মনে করিয়ে দিচ্ছে, আর তা হল ‘মুখে মারিতং জগৎ’।

 

About Post Author