Home » জঙ্গি সন্দেহে আটক তরুণের দেহ নদীতে, কাঠগড়ায় সেনা-পুলিশ

জঙ্গি সন্দেহে আটক তরুণের দেহ নদীতে, কাঠগড়ায় সেনা-পুলিশ

সময় কলকাতা ডেস্ক:- পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় জঙ্গিদের সাহায্যকারী সন্দেহভাজন এক যুবকের দেহ উদ্ধার ঘিরে সপ্তাহের শুরুতেই ছড়াল উত্তেজনা। রবিবার সকালে কুলগামের অহরবল এলাকায় নদী থেকে উদ্ধার হয় ইমতিয়াজ আহমেদ মাগরে নামে ২৩ বছর বয়সি ওই যুবকের দেহ। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলেছে যুবকের পরিবার। বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এদিকে, পাল্টা পুলিশের দাবি, পালাতে গিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ওই যুবক যার জেরেই মৃত্যু হয়েছে। নিজেদের দাবির সপক্ষে এক ভিডিও প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভূস্বর্গের রাজনীতি।

গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা ও ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গোটা কাশ্মীর জুড়ে তল্লাশি অভিযানে নেমেছে সেনা ও পুলিশ। জঙ্গিদের সাহায্যের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বহু সন্দেহভাজনকে, চলছে জিজ্ঞাসাবাদও। পুলিশের সন্দেহের তালিকায় থাকা ইমতিয়াজকেও গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ইমতিয়াজের বাড়ি কুলগাঁওয়ের তাংমাগরেতে। অভিযোগ ছিল, হামলাকারী জঙ্গিদের পহেলগাঁওয়ে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল এই ইমতিয়াজ।

পুলিশের দাবি, জেরায় জঙ্গিদের সাহায্যের কথা স্বীকার করেছিল অভিযুক্ত। জঙ্গলের মধ্যে জঙ্গিরা কোথায় ঘাঁটি গেড়েছিল, সেই ঠিকানা দেখতে ইমতিয়াজকে সঙ্গে নিয়ে রওনা দেয় নিরাপত্তাবাহিনী। সেই সময় পুলিশের হাত ছাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত। পুলিশের দাবি, নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে সন্দেহভাজন ওই লস্কর জঙ্গি। ইমতিয়াজের নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ্যে আনা হয়েছে পুলিশের তরফে। এদিকে ইমতিয়াজের মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনীতি।

পরিবারের দাবি, দিন কয়েক আগে সেনা বাহিনীর একটি দল এসে ইমতিয়াজকে তুলে নিয়ে যায়। কাজের সন্ধানে যাওয়া ভিন রাজ্য থেকে কাশ্মীরের বাড়িতে দিন পনেরো আগে ফিরেছিল সে। রবিরার তাঁর দেহ স্থানীয় নদীতে ভাসতে দেখা যায়। নিহতের বাড়িতে যান মন্ত্রী সাকিনা ইতু। তিনিও ঘটনার নিন্দা করেন। ও ইমতিয়াজের মৃত্যুর বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। এই ইস্যুতে এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, কুলগাঁওয়ে ইমতিয়াজ নামে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, দু’দিন আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই যুবককে আটক করেছিল পুলিশ। এরপর তাঁর মৃতদেহ নদী থেকে উদ্ধার হল। এই ঘটনা গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা উপত্যকার শান্তি, পর্যটন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। তবে এই ঘটনার ফলে উপত্যকার মানুষকে নির্বিচারে গ্রেফতার, বাড়ি ভাঙা ও সাধারণ নাগরিকদের এভাবে টার্গেট করা হয়, তাহলে বলতে হবে অপরাধীরা তাদের লক্ষ্যে সফল হয়েছে।

যদিও, পুলিশের দাবি, ইমতিয়াজের সঙ্গে জঙ্গিদের যোগের কথা সে জেরায় স্বীকার করেছিল। একটি জঙ্গি ঘাঁটি চিনিয়ে দিতে তাঁকে নিয়ে বেরিয়েছিল তদন্তকারীরা। জঙ্গি ঘাঁটির সন্ধান দিতে ইমতিয়াজকে নিয়ে নদী পেরনোর সময় সে ঝাঁপ দেয়। সে চেষ্টা করেছিল নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালাতে। কিন্তু তীব্র স্রোতে সম্ভব হয়নি। ওই সময়ের ভিডিও চিত্র ড্রোনে ধরা হয়েছে।

দিল্লির মতো নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাসীন থাকলেও জম্মু-কাশ্মীরের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ভার কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা ও ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গোটা কাশ্মীর জুড়ে তল্লাশি অভিযানে নেমেছে সেনা ও পুলিশ। দফায় দফায় চলছে তল্লাশি অভিযান, জিজ্ঞাসাবাদ। এসবের মাঝেই জঙ্গি সন্দেহে আটক তরুণের দেহ মিলতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভূস্বর্গের রাজনীতি।

 

About Post Author