সময় কলকাতা ডেস্ক:- মঙ্গলবার বেজিংয়ে আয়োজিত চতুর্থ চায়না-সেলাক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশগুলির প্রতিনিধিদের সামনে চিনা প্রেসিডেন্ট বলেন, শুল্ক যুদ্ধ কিংবা প্রভুত্ব বিস্তারের মানসিকতায় কেউই জেতেন না। এই ধরণের আচরণ শেষমেশ একঘরে হয়ে যাওয়ার দিকেই ঠেলে দেয়। শি এমন সময়ে এই কথা বলেছেন যখন চিন ও আমেরিকা একে অপরের পণ্যের উপর চাপানো শুল্ক ৯০ দিনের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৯০ দিনের জন্য দুই দেশই পারস্পরিক শুল্ক ১১৫ শতাংশ কমাতে রাজি হয়েছে। গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে মার্কিন ও চিনের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের মধ্যে। তারপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাজারে স্বস্তিও ফিরিয়েছে। তবে ঠিক তার পরদিনই আমেরিকার উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেন, শুল্ক যুদ্ধ কিংবা প্রভুত্ব বিস্তারের মানসিকতায় কেউই জেতেন না। এই ধরণের আচরণ শেষমেশ একঘরে হয়ে যাওয়ার দিকেই ঠেলে দেয়।
শি বলেন, গত শতাব্দীতে যেসব রূপান্তর দেখা যায়নি, এখন সেসব খুব দ্রুত ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক স্তরে ঐক্য ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার বেজিংয়ে আয়োজিত চতুর্থ চায়না-সেলাক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন। চায়না-সেলাক ফোরামটি ২০১৪ সালে গঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে চিনের প্রভাব বাড়ানো-র পাশাপাশি ঐ অঞ্চলে আমেরিকার দীর্ঘদিনের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানানো।
এই ফোরামে ৩৩টি সদস্য দেশ রয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও চিলির রাষ্ট্রপতিরাও।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চিন মার্কিন চাপের মুখে নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছে এবং পাল্টা শুল্ক আরোপে পিছপা হয়নি। পাশাপাশি কূটনৈতিক স্তরে এক চার্ম অফেন্সিভ শুরু করেছে বেজিং, যেখানে তারা নিজেদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরছে এবং মার্কিন বুলিং-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।
শি বলেন, যখন ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও গোষ্ঠীভিত্তিক মেরুকরণ বাড়ছে, একতরফা নীতি ও সুরক্ষাবাদের ঢেউ উঠছে, তখন চিন তার লাতিন ও ক্যারিবিয়ান বন্ধুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। অনেকের মতে, শি জিনপিংয়ের এই বার্তা শুধুমাত্র আমেরিকার প্রতি প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এক নতুন ভূ-কৌশলগত বাস্তবতার দিকেও ইঙ্গিত করছে, যেখানে চিন গ্লোবাল সাউথ-এর নেতৃত্ব দাবি করতে চায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই ঠিক যেমন ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি নিয়ে এদেশের ঘরোয়া রাজনীতি সরগরম, তেমনই আরও এক সাময়িক যুদ্ধবিরতির উপর নজর রয়েছে গোটা দুনিয়ার।


More Stories
কোটি কোটি টাকার চুক্তি :কীভাবে ধোঁকা দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে বোকা বানালেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত ব্যবসায়ী গৌরব?
বিশ্বকাপে শিল্পময় লাতিন আমেরিকার শিবরাত্রির সলতে আর্জেন্টিনা
ট্রাম্পের নির্দেশে বিশ্বকাপে আমেরিকান ফুটবলারের রেড কার্ডের সাসপেনশন উঠে গেল