সময় কলকাতা ডেস্ক:- এবার আফগানিস্তানকেও কাছে টেনে নিল চিন-পাকিস্তান! ভারতের আপত্তিকে অগ্রাহ্য করেই আফগানিস্তানে সম্প্রসারিত হচ্ছে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর। এই অর্থনৈতিক করিডোর আফগানিস্তানে সম্প্রসারণের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে তিন দেশই। বুধবার বেজিংয়ে চিন, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানেই তিন দেশ এই করিডোর সম্প্রসারণে রাজি হয়েছে।
চিন সফরে গিয়েছিলেন তালিবান বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সেখানে চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই এবং পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
তারপরেই জানা গিয়েছে, আফগানিস্তানেও চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর-কে পৌঁছে দিতে রাজি হয়েছেন তালিবান বিদেশমন্ত্রী। পাশাপাশি, উন্নয়ন উদ্যোগের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শনের জন্য, ওই তিন দেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিসিয়েটিভ-এ সহযোগিতা আরও গভীর করতে রাজি হয়েছে।
অপারেশন সিঁদুরের পর প্রথম বিদেশ সফরেই চিনে যান পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী। সোমবার চিনে পৌঁছেই চিনা বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ইশাক দার। মঙ্গলবার চিনে পৌঁছন আফগানিস্তানের কার্যকরী বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। ওইদিন ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয় বেজিংয়ে। সুরক্ষাক্ষেত্রে তিন দেশের সহযোগিতা এবং ভারত-পাক সংঘাতের আবহে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হবে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল। সেই বৈঠকের পরদিন অর্থাৎ বুধবার পাক বিদেশমন্ত্রক থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, আঞ্চলিক সুরক্ষা, স্থিতাবস্থা এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে একজোট থাকবে চিন, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান।
কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি এবং যোগাযোগ আরও দৃঢ় করে বাণিজ্য এবং উন্নয়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে চিন-পাকিস্তান আর্থিক করিডর পৌঁছে যাবে আফগানিস্তানেও।
২০১৩ সালে পাকিস্তানে পরিকাঠামো নির্মাণে উদ্যোগী হয়ে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্প শুরু করে চিন। ওই প্রকল্পের অন্তর্গত তৈরি একটি সড়ক গিয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্যে দিয়ে। আর তাতেই ঘোর আপত্তি তোলে ভারত। এই পদক্ষেপ দেশের সর্বভৌমত্বে আঘাত বলেই স্পষ্ট বয়ান দেয় নয়াদিল্লি।
দীর্ঘদিন ধরে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের বিরোধিতা করেছে আফগানিস্তানের বন্ধু বালোচিস্তানও। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলকে চমকে দিয়ে চিনের এই প্রকল্পে রাজি হয়েছে আফগানিস্তান।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিল আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ভারতের সঙ্গে কাবুলের সম্পর্কে চিড় ধরল?
কয়েকদিন আগেই তালিবান বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন এস জয়শংকর। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি অপারেশন সিঁদুর নিয়ে পাকিস্তানের মন্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদও করেন আমির খান মুত্তাকি। তাতেও কি লাভ হল না? উঠছে প্রশ্ন।


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি