সময় কলকাতা ডেস্ক:- বারুইপুরে মিলবে তেল-গ্যাস? খননের প্রস্তুতি শুরু ওএনজিসি-র। তেমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বারুইপুরের প্রত্যন্ত বেগমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০০ কলোনি এলাকায়। মূলত উদ্বাস্তু অধ্যুষিত এই গ্রামে অধিকাংশ মানুষেরই জীবিকা চাষবাস। সেই চাষের জমিতেই দেড় বছর ধরে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ওএনজিসি। সেই পরীক্ষা–নিরীক্ষার ফলেই ওএনজিসি র ধারণা, ওখানকার ভূগর্ভে মিলতে পারে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস।
বারুইপুর পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বিভাস সর্দার জানান, ‘ওএনজিসি এক হাজার একর জমিতে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য কাজ করবে। এর মাধ্যমেই একদিকে এলাকার আর্থিক উন্নতি হবে। কর্মসংস্থানেরও বিপুল সুযোগ পাবেন এলাকার মানুষ।’ যদিও এ বিষয়ে ওএনজিসি তেমন কিছু জানায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শঙ্কর দাস বলেন, ‘ওএনজিসি বিস্তর খোঁজাখুঁজি করে আমাদের এখানকার চাষের জমিতে খননের উদ্যোগ নিয়েছে। খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মিললে আমাদের এলাকার প্রভূত উন্নতি হবে।’
স্বাভাবিকভাবেই ওএনজিসির এই তৎপরতায় আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওএনজিসির পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের মধ্যে শঙ্কর মণ্ডল, প্রদীপ মণ্ডলের মতো কয়েকজন গ্রামবাসীর কাছ থেকে ইতিমধ্যেই তাঁদের জমিতে খননের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র আদায় করা হয়েছে।
ওএনজিসির এক কর্তা জানিয়েছেন, বেগমপুরে এখন সিভিল কনস্ট্রাকশনের কাজ চলছে। সেই কাজ শেষ হলে সেখানে ভূগর্ভস্থ তেল ও গ্যাসের সন্ধানে রিগ বসিয়ে ড্রিল করার কাজ শুরু হবে। সেটা হতে এখনও ৫-৬ মাস সময় লাগবে। তবে এর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা এলাকায় যে কর্মসংস্থানের গল্প রটাচ্ছেন তার কোনও যোগ নেই।
এই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার সোনা খান বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়ার সম্ভবনা থাকায় ওএনজিসি এখানে জমি মালিকদের কাছে থেকে লিজে নিয়ে খনন করার উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকাঠামোগত অনেক কাজ করা হচ্ছে। জমিতে কেমিক্যাল হাব ও রিজার্ভার তৈরি করা হবে। চার মাসে তা শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। দৈনিক ২৫০–র বেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রমিক সেই কাজ করছে।’
২০০ কলোনি এলাকার কৃষি জমিকে চিহ্নিত করে প্রাথমিক পর্যায়ে উত্তোলন পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্যই জোর কদমে কাজ শুরু করে দিয়েছে ওএনজিসি। সেই জন্য চাষের জমিতে কংক্রিটের রাস্তা তৈরি করা শুরু হয়েছে। যাতে খননের জন্য ভারী যন্ত্রাংশ সেখানে নিয়ে আসা যায়। এর পাশাপাশি ওএনজিসির কর্মচারীদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে কোয়ার্টার ও ক্যান্টিন। তৈরি করা হচ্ছে কনফারেন্স রুম।


More Stories
পারিবারিক ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে খু*ন করে আত্ম*ঘাতী স্বামী
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ