সময় কলকাতা ডেস্ক:- ভারতের বিরুদ্ধে ফের আগ্রাসী ভাষা ব্যবহার করল পাকিস্তান। সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মাঝেই পাক সেনার মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী প্রকাশ্য সভায় ভারতকে উদ্দেশ্য করে বললেন, জল আটকালে নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এত কিছুর পরেও পাকিস্তানের এই বক্তব্যে অবাক গোটা কূটনৈতিক মহল। কারণ, এই হুমকি হুবহু মিলে যায় জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা ও ২৬/১১ মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদের পুরনো এক ভয়ঙ্কর হুমকির সাথে।
জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার একদিন পর, গত ২৩ এপ্রিল ভারত সিন্ধু জলচুক্তির কিছু অংশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে।
সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার, পাকিস্তানের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন জেনারেল চৌধুরী। এই হুমকির ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে বহু মানুষ হাফিজ সইদের পুরনো বয়ানের সঙ্গে এর সরাসরি মিল খুঁজে পাচ্ছেন।
হাফিজও একবার বলেছিলেন, তোমরা যদি আমাদের জল আটকে দাও, আমরা তোমাদের নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেব। এই হুমকি দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও আমেরিকার বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে।
১৯৬০ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আয়ুব খানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় সিন্ধু জলচুক্তি। এর মধ্যস্থতাকারী ছিল বিশ্বব্যাংক। এই চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু এবং তার উপনদীগুলির জল বণ্টনের একটি কাঠামো তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে, দু’দেশের মধ্যে জলবিষয়ক তথ্য আদান-প্রদানের বাধ্যবাধকতাও যুক্ত ছিল। তবে, ভারত বারবার বলে এসেছে, ‘রক্ত ও জল একসঙ্গে বইতে পারে না, কথাবার্তা ও সন্ত্রাস পাশাপাশি চলতে পারে না।’ এই অবস্থান থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ করছে নয়াদিল্লি।
তারই অংশ হিসাবে ৭ মে চালানো হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’, যেখানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯ টি জঙ্গি ঘাঁটিকে নিশানা করে আঘাত হানে ভারতীয় বাহিনী। এদিকে, সিন্ধু জলচুক্তি বাতিলের ফলে মারাত্মক সংকটের পরিস্থিতি পাকিস্তানে। কোথাও জলকষ্ট, কোথাও বন্যা পরিস্থিতি! দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দেশবাসীর শুকিয়ে মরার অবস্থা। অভাবনীয় সংকট থেকে বাঁচতে ফের ভারতের কাছে কাকুতি-মিনতি শুরু করেছে পাকিস্তান। তবে ইসলামাবাদের হাজার অনুরোধেও চিড়ে ভিজবে না বলে সাফ জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
এই পরিস্থিতিতে জেনারেল চৌধুরীর মন্তব্য শুধুই একটি হুমকি নয়, একটি বড়সড় কূটনৈতিক অশান্তিরও ইঙ্গিত। বিশেষত, যখন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে জলকেই ‘অস্ত্র’ করার মতো মন্তব্য আসে, তা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার