Home » নাইট শেল্টারে আপত্তি, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি-বচসা

নাইট শেল্টারে আপত্তি, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি-বচসা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- গড়িয়াহাট ব্রিজের নীচে যাঁরা ফুটপাথে থাকেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলছিলেন কলকাতা পুরসভার সমাজকল্যাণ বিভাগের আধিকারিকরা। সঙ্গে ছিল পুলিশও। পুর আধিকারিকরা জানান, রাস্তা থেকে জিনিসপত্র গুছিয়ে তাঁদের সঙ্গে নাইট শেল্টারে যেতে হবে। ফুটপাথে আর থাকা যাবে না।

এ কথা শুনে বছর বত্রিশের সাবিত্রী মণ্ডল বলে ওঠেন, ‘আমাদের জায়গা ছেড়ে আমরা কেন যাব? আপনারা অপরিচিত। খামোকা আপনাদের সঙ্গে কেন যেতে হবে? কোথাও যাব না।’ এ কথা শুনে হতভম্ব হয়ে যান পুরকর্তারা। ফুটপাথবাসীরা সরতে রাজি না হলে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়। শেষে আরও পুলিশ এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।

সমাজকল্যাণ বিভাগের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, ‘রাতে ফুটপাথে খোলা আকাশের নীচে কেউ থাকতে পারবেন না। রাজ্য সরকারের তরফে পুরসভাকে এ নিয়ে একাধিক বার নজর দিতে বলা হয়েছে। তারপরেই পুরসভা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নাইট শেল্টার তৈরি করতে শুরু করেছে।’

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে কলকাতা পুরসভা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নাইট শেল্টার তৈরি করেছে। ভবানীপুরে নর্দান পার্কে ১০০, নারকেলডাঙার ক্যানাল ওয়েস্ট রোডে ৫০, ঢাকুরিয়ার নস্করপাড়া বাপুজি কলোনিতে ৩২, টালিগঞ্জের গান্ধি কলোনিতে ৯৪, মানিকতলার মুরারিপুকুরে ২০৮ জন গৃহহীনের জন্য নাইট শেল্টার বানিয়েছে পুরসভা। ক্যানাল রোড, বড়বাজারের মহাত্মা গান্ধী রোড এবং মুরারিপুকুর রোডে আরও নাইট শেল্টার বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার পার্ক সার্কাস, বালিগঞ্জ, বেকবাগান, গড়িয়াহাট, হাজরার ফুটপাথে যাঁরা থাকেন, তাঁদের নাইট শেল্টারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় কাজ শুরু করে কলকাতা পুরসভার সমাজকল্যাণ বিভাগ। পুর কমিশনার ধবল জৈন সোমবার রাতেই, এই অভিযানের কথা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মাকে লিখিত ভাবে জানিয়েছিলেন। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন অভিযানে নেমে বিভিন্ন জায়গায় বাধার মুখে পড়তে হয় পুরকর্মী এবং পুলিশকে। এ জন্য বিলম্বও হয়।

সংশ্লিষ্ট কাজের দায়িত্বে থাকা এক পুর আধিকারিক বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে ওঁরা খোলা আকাশের নীচে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন। তাঁদের বুঝিয়ে ঘরে ঢোকাতে, সময় তো লাগবেই।’ সংশ্লিষ্ট বিভাগের মেয়র পারিষদ মিতালি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সারা দিনে ১৬৮ জন ফুটপাথবাসীকে নাইট শেল্টারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।’

About Post Author