Home » আহমেদাবাদ বিমান বন্দর থেকে টেক ওফের মাত্র পাঁচ মিনিটেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। ওই বিমানে ছিলেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিও

আহমেদাবাদ বিমান বন্দর থেকে টেক ওফের মাত্র পাঁচ মিনিটেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। ওই বিমানে ছিলেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিও

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা গুজরাটের আহমেদাবাদে। মাত্র ৬২৫ ফুট উপরে উঠেই লোকালয়ে ভেঙে পড়ে বিমান। সেই বিমানের যাত্রী তালিকায় নাম রয়েছে গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিরও। এখনও পর্যন্ত বহু যাত্রীর মৃত্যুর আশঙ্কা!

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১০ নাগাদ ২৩০ জন যাত্রী, ১০ জন কেবিন ক্রু, ২ জন পাইলটকে নিয়ে ভেঙে পড়ে বোয়িং ৭৮৭। ফ্লাইট নম্বর- এআই-১৭১। আমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক এয়ারপোর্টের দিকে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইটটি। তবে টেকঅফের মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে লোকালয়ে তথা মেঘানি নগরে চিকিৎসকদের হস্টেলে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমান। আমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের একেবারে কাছেই দুর্ঘটনাস্থল। দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরে যাতায়াতের সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, বিমান ভেঙে পড়ার আগে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)-কে বিপদাবার্তা পাঠিয়েছিল (মে ডে কল)। ফ্লাইটরাডা ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, পাইলটের কাছ থেকে বিপদবার্তা পেয়ে এটিসি যোগাযোগের চেষ্টা করলেও যোগাযোগ আর করা যায়নি। তার পরই বিমান ভেঙে পড়ার খবর জানা যায়।

বড় কোনও বিস্ফোরণ হলে ঠিক যে ছবি দেখা যায়, সেই ছবিই দেখা গিয়েছে। চার দিক কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে।

যেহেতু লোকালয়, ভয়ে আতঙ্কে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অনেকে প্রথমে বুঝতেই পারেননি, ঠিক কী ঘটেছে। অনেকে ভেবেছিলেন, সামনের বস্তিতে আগুন লেগেছে। কেউ কেউ ধরেছিলেন, বোমা পড়েছে বিমানবন্দরের কাছে। এর পরেই দেখা যায়, একটি দেওয়াল ভেঙে ঢুকে রয়েছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের অংশ। সাম্প্রতিক অতীতে এমন ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ভারতে ঘটেনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোনে কথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পাটেলের সঙ্গে।

সূত্রের খবর, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটিতে ৫৩ জন ব্রিটিশ যাত্রী ছিলেন। ভারতীয় ছিলেন ১৬৯ জন। ৭ জন পর্তুগিজ এবং ১ ক্যানাডিয়ান যাত্রী ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।

ফ্লাইটের পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়াল, কো-পাইলট ছিলেন ক্লাইভ কুন্দার। সূত্রের খবর, যাত্রীদের মধ্যে ৪ জন শিশুও ছিল।

সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিজয় রূপানির স্ত্রী অঞ্জলি রূপানি লন্ডনে রয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, তাঁর সঙ্গেই দেখা করতে যাচ্ছিলেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

বিজয়ভাই রামনিকলালভাই রূপানি দীর্ঘদিনের রাজনীতিক। ২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দুই দফায় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বিজেপির এই বর্ষীয়ান নেতা। রাজকোট পশ্চিমের বিধায়ক ছিলেন। ২০২১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রূপানি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন। সেই পদে বসেন ভূপেন্দ্র প্যাটেল।

ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে দুর্ঘটনার ভিডিও। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে আগুনের গোলা আকাশে উঠতে। দ্রুত শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। বহু দমকল ইঞ্জিন ও কর্মী লেগেছেন উদ্ধারকাজে।

নীচে দেওয়া রইল যাত্রীদের তালিকা:-

দেখা যাচ্ছে, এই তালিকায় ১২ নম্বরে নাম রয়েছে বিজয় রুপানির।

About Post Author